মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয় আগেই স্লোগান বেঁধে দিয়েছিলেন – সাগর মেলার আহ্বান স্বচ্ছতার পুণ্যস্নান। মকর সংক্রান্তির পুণ্য লগ্নে সেই স্বচ্ছতা সংক্রান্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে এলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী বেচারাম মান্না। বুধবার সকালেই তিনি পায়ে হেঁটে স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নানান উদ্যোগ সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। সঙ্গে ছিলেন দঃ২৪ পরগণা জেলা প্রশাসন ও সাগর ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা।
মন্ত্রী প্রথমে মেলা প্রাঙ্গনের পাঁচ ও ছয় নম্বর রাস্তার মাঝে অবস্থিত কমিউনিটি টয়লেট ব্লকগুলি পরিদর্শন করেন। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা সহ গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার শৌচাগার, চার শতাধিক ভ্রাম্যমান শৌচাগার ও বেশ কিছু বায়োটয়লেট। এরপর তিনি সাগর মেলার জন্য গড়ে তোলা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, ন্যাপকিন ইনসিনেটের ইউনিট, মোবাইল টয়লেট, প্লাস্টিক বোতল ক্রাসার ইউনিট গুলি ঘুরে দেখেন। কথা বলেন পুণ্য স্নানের জন্য ভিন্ রাজ্য থেকে আসা পুণ্যার্থীদের সঙ্গেও।
এ প্রসঙ্গে এদিন বেচারাম মান্না জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আবর্জনা মুক্ত ক্লিন ও গ্রিন গঙ্গাসাগর মেলা গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকার বিভিন্ন ধরনে উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটে মেলার পচনশীল আবর্জনাকে জৈব সারে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য ধরন অনুযায়ী বাছাই,পরিষ্কার ও শুকনো করে সাগর ব্লকের’ই প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটে পাঠানো হচ্ছে। এমনকি সমুদ্র তটে পুণ্যার্থীদের ফেলে যাওয়া পোশাক থেকে তৈরি করা হচ্ছে নানা উপহার সামগ্রিও।
মন্ত্রী মান্না আরও বলেন, সাগরতট প্রতিনিয়ত পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নিযুক্ত আছেনহাজারের উপরে সৈকত প্রহরী, শৌচাগার গুলিকে পরিচ্ছন্ন রাখবার জন্য দিন-রাত কাজ করছেন নজরদারি কমিটির সদস্যারা। মেলা ও রাস্তাঘাট পরিষ্কারে কাজে যুক্ত আছেন সাফাই কর্মীরাও। আবর্জনা সংগ্রহ করবার জন্য মেলা প্রাঙ্গনে বসানো হয়েছে অসংখ্য ডাস্টবিন এবং এগুলি প্রতিনিয়ত তদারকি করবার জন্য লাগানো হয়েছে জিপিএস সিস্টেম। আবর্জনা সংগ্রহের গাড়িতেও এই ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্লোগানকে যথাযথ রূপ দিতে গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬ কে স্বচ্ছতার পুণ্য ভূমি হিসেবে তুলে ধরবার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন ও সাগর ব্লক প্রশাসনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকে মন্ত্রী বেচারাম মান্না ধন্যবাদ জানান।
Advertisement