• facebook
  • twitter
Wednesday, 4 March, 2026

ভোটার তালিকায় ‘মৃত’, মৃত্যুর শংসাপত্র চাইতে বিডিও দপ্তরে গৃহবধূ

মুর্শিদাবাদের সুতির ডিহিগ্রাম এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে

 ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় বিডিও দপ্তরে হাজির হয়ে নিজের মৃত্যুর শংসাপত্র দাবি করলেন এক গৃহবধূ। এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে রাজ্যে প্রকাশিত হয়েছে প্রথম পর্যায়ের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। সেই তালিকায় নিজের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ উল্লেখ দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে বিডিও দপ্তরে হাজির হন তিনি। তারপর নিজের মৃত্যুর শংসাপত্র দাবি করতে থাকেন।
মুর্শিদাবাদের সুতির ডিহিগ্রাম এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। বিডিও দপ্তরের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, এ ধরনের ত্রুটি সংশোধনের জন্য জেলা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আবেদন জানাতে হবে। তবে আয়েশা ও তাঁর পরিবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দ্রুত তালিকায় নাম পুনর্বহাল না হলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হবেন তাঁরা।
ডিহিগ্রামের ৯২ নম্বর বুথের ভোটার আয়েশা খাতুন। শ্বশুরবাড়ি ডিহিগ্রামে হলেও তাঁর বাবার বাড়ি কাশিমনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর নাম সঠিকভাবেই ছিল। নির্ধারিত নিয়ম মেনে এসআইআরের ফর্ম পূরণ করে জমাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, তাঁর নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ লেখা রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রশাসনিক নথিতে আয়েশাকে ‘মৃত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এরপরই সোমবার সংশ্লিষ্ট বিডিও অফিসে হাজির হন আয়েশা। তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, তিনি যদি জীবিত হন, তা হলে কেন তাঁকে মৃত দেখানো হল? আর যদি সরকারিভাবে মৃত বলে ধরা হয়ে থাকে, তবে তাঁকে মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়া হোক।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিডিও অফিস চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পঞ্চায়েত সদস্য। তাঁর অভিযোগ, একজন জীবিত নাগরিককে নথিতে মৃত দেখানো সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট বুথে মোট ৬২৮ জনের নামে শুনানির নোটিস জারি হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকায় মাত্র তিন জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, বাকিদের ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে রাখা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement