• facebook
  • twitter
Tuesday, 13 January, 2026

জলপাইগুড়িতে ফের হাতির তাণ্ডব

গভীর রাতে শহরে ঢুকে ভাঙচুর, জখম ১

যেন একের পর এক আতঙ্কের অধ্যায় জলপাইগুড়িতে। রবিবার রাতে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল থেকে তিনটি হাতি শহর লাগোয়া করলাভ্যালি চা বাগানে ঢুকে পড়ে। ওই দলের একটি বাচ্চা হাতি সোমবার সকালে চা বাগানের একটি পরিত্যক্ত কুয়োয় পড়ে যায়। প্রায় চার ঘণ্টার টানটান অভিযানের পর বন দপ্তরের কর্মীরা হাতিটিকে উদ্ধার করেন। দীর্ঘ সময় পর স্বস্তি ফিরলেও সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের শহরে আতঙ্ক ছড়ায় দলছুট এক হাতির তাণ্ডবে।

সোমবার রাত পেরিয়ে মঙ্গলবার ভোরের দিকে জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংলগ্ন এক নম্বর সুভাষনগর কলোনিতে ঢুকে পড়ে হাতিটি। আচমকা ঘটনায় এলাকায় হুলস্থুল পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে কয়েকটি বাগান ও পাঁচিল ভেঙে ফেলে হাতিটি। এরপর দু’টি বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। দেওয়াল ভেঙে আসবাব তছনছ করে, এতে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।

Advertisement

এই ঘটনায় জখম হন প্রমীলা ওরাওঁ নামে ১৯ বছরের এক গৃহবধূ। ভাঙা দেওয়ালের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে দ্রুত জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুভাষনগরে তাণ্ডব চালানোর পর হাতিটি ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক পার হয়ে শহরের আরও ভিতরে ঢুকে পড়ে। রাতভর সাইরেন, আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার ও পুলিশের টহলে থমথমে হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। বনকর্মীদের প্রাথমিক অনুমান, করলাভ্যালি চা বাগানে ঢুকে পড়া হাতির দলেরই একটি পথ হারিয়ে শহরে ঢুকেছে।

জঙ্গল, চা বাগান ও বসতি এলাকার দূরত্ব কমে যাওয়াতেই এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। দলছুট হাতিটিকে নিরাপদে জঙ্গলে ফেরাতে বন দপ্তর ও পুলিশের যৌথ অভিযান চলছে। শহরবাসীর একটাই প্রার্থনা, দ্রুত অভিযান শেষ হোক এবং কোনও প্রাণহানির ঘটনা যেন না ঘটে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসুক শীঘ্রই।

Advertisement