তিস্তার (Teesta River) উত্তাল জলে ভেসে গিয়েছিল এক ছোট্ট হাতির শাবক (Elephant calf)। তবে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের উদ্যোগে এবং বন দপ্তরের যৌথ তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ওই শাবকটি (Elephant calf)। তিস্তা থেকে উদ্ধারের পর শাবকটিকে (Elephant calf) তার মায়ে কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকালে গজলডোবায় তিস্তা নদীর (Teesta River) আপার স্ট্রিম এলাকা দিয়ে একটি হাতির দল নদী পার হচ্ছিল। সেই সময় নদী পেরোতে গিয়ে আচমকাই তিস্তার জলে পড়ে যায় হস্তিশাবকটি (Elephant calf)। সঙ্গে সঙ্গেই জলের তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায় ওই ছোট্ট শাবকটি (Elephant calf)। সেই সময় তিস্তা (Teesta River) ব্যারাজের লকগেট খোলা ছিল। স্রোতে ভেসে হাতি ছানাটি কাঠামবাড়ি ও পাঞ্জাব বাঁধ সংলগ্ন ১২ নম্বর এলাকায় চলে আসে।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে আটকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৫৬ বছরের ব্যক্তি
ব্যারাজের উপর থেকে পথচলতি সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের চোখে পড়ে বিষয়টি। তিস্তার (Teesta River) প্রচণ্ড স্রোতে হাতির ছানাটি হাবুডুবু খেতে খেতে তলিয়ে যাচ্ছিল। শুঁড় তুলে বারবার ভেসে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছিল। তা দেখে, বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। বাবলু নামে এক মৎস্যজীবী ও তাঁর সঙ্গীরা অবিলম্বে নৌকা নিয়ে মাঝনদীতে নেমে পড়েন। তীব্র স্রোতের তোয়াক্কা না করে চরম সাহসিকতার সঙ্গে তাঁরা জল থেকে হাতির শাবকটিকে উদ্ধার করে। নৌকার সাহায়্যে নিরাপদে তীরের দিকে নিয়ে আসে। এরপর কাঠামবাড়ি রেঞ্জ অফিসে খবর দেওয়া হয়।
খবর পাওয়ামাত্রই বৈকুণ্ঠপুর ও আপালচাঁদ বনদপ্তরের কর্মী তথা রেঞ্জ অফিসাররা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। মৎস্যজীবী ও বনকর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে উদ্ধার কাজ চালিয়ে শাবকটিকে উদ্ধার করা হয়। এরপর হস্তিশাবকটিকে সরস্বতীপুর ফরেস্ট সংলগ্ন তীর ও গজলডোবা তিস্তা ব্যারাজ পার করিয়ে একটি নিরাপদ শুকনো জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানের হুঁশিয়ারির মধ্যেই পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৩
বন দপ্তর সূত্রে খবর, ওই ব্যারাজ সংলগ্ন শুকনো এলাকাতেই সন্তানহারা মা হাতিটি আশ্রয় নিয়েছিল। বনকর্মীরা শাবকটিকে নিরাপদে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়। অক্ষত অবস্থায় ছানাটিকে পেয়ে আবার কাঠামবাড়ির জঙ্গলের পথে এগিয়ে যায় মা ও ছানা।
দেখুন:




