বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে ফের বড়সড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। বেআইনি কাজের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক জেলায় অতিরিক্ত জেলাশাসক ও রিটার্নিং অফিসারদের দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন উনিশ রিশিন ইসমাইল। তাঁর বিরুদ্ধে ভোটের আগে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের অভিযোগ ওঠে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ভোট পরিচালনার কাজে এই ধরনের নিয়োগ নিষিদ্ধ হওয়ায় বিষয়টি গুরুতর বলে বিবেচিত হয়। সেই কারণেই তাঁকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন জেলাশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে নিরঞ্জন কুমারকে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় এই পরিবর্তন রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
Advertisement
তবে শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, একই দিনে আরও পাঁচ জেলায় পাঁচ অতিরিক্ত জেলাশাসকের দায়িত্ব বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। উত্তর ২৪ পরগনায় কর্মরত রাজ্য সরকারের বিশেষ সচিব তেজস্বী রানাকে ভাটপাড়া বিধানসভার রিটার্নিং অফিসার করা হয়েছে। অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ারের অতিরিক্ত জেলাশাসক আদিত্যবিক্রম মোহনকে মুর্শিদাবাদের রানিনগরে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলাশাসক রোহন লক্ষ্মীকান্তকে বাঁকুড়ায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলাশাসক লক্ষ্মণ পেরুমাল এবং বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাও পাতিলেরও নতুন দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
Advertisement
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে ধারাবাহিক রদবদল শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই রাতেই মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে বদলি করা হয়। পরদিন রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর একসঙ্গে ১২টি জেলার পুলিশ সুপার বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মধ্যে কোচবিহার, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ একাধিক জেলা রয়েছে।
এই ধারাবাহিক রদবদল নিয়ে শাসকদল তৃণমূলের তরফে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করছে। যদিও কমিশনের অবস্থান, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নবান্ন ইতিমধ্যেই অপসারিত কিছু আধিকারিককে অন্য পদে পুনর্বহাল করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, প্রয়োজনে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে প্রশাসনিক স্তরে এই ধারাবাহিক রদবদল রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও তপ্ত করে তুলছে।
Advertisement



