‘‘যাঁরা দুপুর দু’টোর সময় বা আড়াইটের সময় সভায় আসেন তাঁরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে আসেন না। সিদ্ধান্ত নিয়ে আসেন পঞ্চাশ হাজার ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতাবে।’’— শনিবার বসিরহাটে প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র (বাদল)-এর সমর্থনে আয়োজিত জনসভার শুরুতেই এই বার্তা দেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘প্রথম দফায় ভোট হয়েছে গত পরশু দিন, তৃণমূল সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছে। ২৯ তারিখ ডবল সেঞ্চুরি পার হবে, আর সংখ্যা কোথায় গিয়ে থামবে আমি নিজেও জানি না।’’ এদিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাদুড়িয়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বুরহানুল মুকাদ্দিম (লিটন)।
তাঁর অভিযোগ, ‘‘শমীক ভট্টাচার্য উপনির্বাচন জিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভ্যাবলা স্টেশনের কাছে রেলওয়ে ওভার ব্রিজের দাবি নাকি পূরণ করবেন। তিনি নির্মল বাংলা প্রকল্পে বসিরহাট পুরসভা রাজ্যের মধ্যে প্রথম হয়েছে বলেও জানান। পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘‘ভ্যাবলা আন্ডারপাসের দাবি আমি আপনাদের হয়ে আগামী দিন সাংসদে তুলবো। কেন্দ্র সরকার যদি না-করে, আমাদের সরকার কোনও সাহায্য ছাড়াই করবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘কথা দিয়ে গেলাম, চার তারিখের পরে এই ভুয়ো কম্পাউন্ডারকে মাছের বাজারে নিয়ে গিয়ে মাছ কাটাবো। মাছ বিক্রিও করাবো। এরা যে ভাষায় বোঝে, আমি জবাব দিতে জানি। ছিল তৃণমূল, আছে তৃণমূল, থাকবে তৃণমূল।’’
Advertisement
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে এদিনের জনসভা ছিল তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লা ও মোঃ বাহারুল ইসলামের সমর্থনে। সভা থেকে অভিষেক স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘‘ক্যানিং পূর্ব আর পশ্চিমের সাথে এবার ভাঙড়েও জোড়াফুল ফোটাতে হবে। যাতে উন্নয়ন বাধাপ্রাপ্ত না হয়।’’ একইসঙ্গে আইএসএফ-কে নিশানা করে বলেন, ‘‘যাঁরা আদর্শ নিয়ে কথা বলে, যাঁরা নিজেদের পীরজাদা হিসাবে দাবি করে, ২০২৩-এ পঞ্চায়েত নির্বাচনে আইএসএফ-র একজন কর্মী নিহত হয়েছিল, প্রধান অভিযুক্তর নাম ছিল আরাবুল ইসলাম। আজকে আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে তথাকথিত পীরজাদা আরাবুল ইসলামকে ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী করেছে, এই হচ্ছে আইএসএফ-র আসল চেহারা।’’ ভোটারদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এবার কোনও রকম ভাঁওতাবাজিতে পা দেবেন না। উন্নয়নের স্বার্থে সওকত মোল্লাকে ভাঙড় থেকে জেতাতে হবে। আর ভাঙড়ের সার্বিক উন্নয়নের দায়িত্ব নেব আমরা। এই ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসকে এমনভাবে জেতাতে হবে যাতে এখানে আইএসএফ আর বিজেপির ঝান্ডা ধরার লোক না থাকে।’’
Advertisement
দক্ষিণ ২৪ পরগনা বিরোধী শূন্য করার ডাক দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘এবার ৩১-০ তৃণমূলের পক্ষে হতে হবে। সেটা তখনই সম্ভব যখন ভাঙড়ে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ব্যবধানে জিতবে। ৮৭ হাজারের বেশি ব্যবধান এবার টপকাতে হবে।
Advertisement



