ডায়মন্ড হারবারের হিঞ্চাবেড়িয়ায় মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ। ওষুধ কেলেঙ্কারির এই ঘটনাতেও জড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। কারণ উদ্ধার হওয়া ওষুধের গায়ে ‘সেবাশ্রয়’-এর লোগো ছিল। ওষুধ উদ্ধারের এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সেবাশ্রয়ের নাম জড়ানোয় স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটিতে লেগেছে রাজনৈতিক রং। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া ওষুধের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। সময়-সুযোগ মতো পাচার করার জন্য মাটির তলায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। বিপুল পরিমাণ ওষুধ কেন মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার এলাকায় জেসিবি দিয়ে মাটি খোঁড়া হচ্ছিল। সে সময় মাটির তলা থেকে একের পর এক ওষুধের প্যাকেট উদ্ধার হয়। দেখা যায় উদ্ধার হওয়া ওষুধের প্যাকেটে সেবাশ্রয়ের লোগো রয়েছে। ওষুধ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় স্থানীয় মানুষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির মেয়াদ রয়েছে কি না, সেগুলি ব্যবহারের উপযোগী ছিল কি না এবং কী কারণে সেগুলি মাটির নিচে রাখা হয়েছিল, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, সেবাশ্রয় শিবিরের নামে এভাবেই বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ চুরি করা হয়েছে। দুর্নীতির প্রমাণ লোপাট করতেই ওই সব ওষুধ মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। বিজেপির দাবি, মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। বিজেপির আরও দাবি, উদ্ধার হওয়া ওষুধের বেশিরভাগেরই মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি।
অন্যদিকে, দুর্নীতির অভিযোগকে ভিত্তি হীন বলছে তৃণমূল। তাদের দাবি, মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার কারণেই ওই সমস্ত ওষুধ মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের শুরু হয়েছিল ‘সেবাশ্রয়’ শিবির। সেই উদ্যোগকে ঘিরেই এবার সামনে এল নতুন বিতর্ক।




