সদ্য রাজ্য বাজেট পেশ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের বাজেট পেশের পর রাজ্য-রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এবং মহিলাদের জন্য একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। এমনকী সর্বস্তরের জন্য নানা ঘোষণা করা হয়েছে। এই বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তবে নেপথ্যে কাজ করে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এমন বাজেট পেশ করা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সহায়তায়। আর তারপরই মঙ্গলবার তিন পাতার চিঠি প্রধানমন্ত্রীকে লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই চিঠিতে রয়েছে শুধুই আবেগঘন বার্তা। প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা ছাড়া যে সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব নয় সেটাও তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে। কাশ্মীর নীতি, সিএএ-সহ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনপাতার চিঠির শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘পরম সম্মানীয় মোদীজি’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুর্নীতি ও অপশাসন মুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন, প্রগতি এবং বিকাশের দিকে এগোচ্ছে বলে চিঠিতে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের নাগরিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে গৈরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আন্তরিক ধন্যবাদও জানানো হয়েছে। বাংলা ভাষায় লেখা ওই চিঠিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক অবদানকে স্মরণ করা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করেন। এই দিনটিকে বলিদান দিবস হিসাবে পালন করা হচ্ছে। তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে। দুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী যোগ দিবসে কলকাতায় এসেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবার চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে লিখলেন, ‘১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময়ে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এবং ধর্মীয় উগ্রতার জেরে ধারাবাহিকভাবে যাঁরা পশ্চিমবঙ্গ বা এদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, সিএএ-র মাধ্যমে তাঁদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া ঈশ্বরের আশীর্বাদের মতো।’
অন্যদিকে ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বেই আগামী দিনে ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার প্রত্যয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই আগামী দিনে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর বলেও বার্তাও দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের একমাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা চিঠি রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।




