মায়ের নামে একটি গাছ— বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কেন্দ্রের এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, শুক্রবার নলবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গাছ পোঁতার সঙ্গে সঙ্গে পুকুরে মাছের চারা ছাড়তেও দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। চলতি বছরে ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ রোপণ করার লক্ষ্য বলে বার্তা দিলেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়, পীযূষ কানোরিয়া, শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
এদিকে চলতি বছরে ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ রোপণ যে লক্ষ্য সেটা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে জঙ্গলের জমি হাত বদল হয়ে যাচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘চলতি বছরে ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ রোপণের লক্ষ্য মাত্রা রাখা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি পড়ুয়াদের আরও ভালোভাবে বোঝানোর জন্য পাঠ্যপুস্তকে বিশেষ পরিমার্জনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সকল ব্লক, স্কুল, কলেজ, পুরসভা, বিজেপির উদ্যোগে থানা এলাকায় হচ্ছে এই কর্মসূচি। মূলত ফলের গাছ লাগানো হচ্ছে। দু’বছর আগে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন দিল্লিতে। আগামী ১ বছর ১ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রায় সরাসরি যুক্ত হবেন রাজ্যবাসী এবং স্কুল পড়ুয়ারা। বিভিন্ন ব্লক অফিস থেকে স্কুলগুলিকে দেওয়া হবে গাছের চারা।’
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই কর্মসূচির সঙ্গে এবার জুড়ল বাংলা। আজ ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে এই বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির সমস্ত নেতৃত্ব। এখানেই মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ৬ লক্ষ ফলের গাছ রোপণ করা হবে। চলতি বছরে ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ রোপণের লক্ষ্য মাত্রা রাখা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণে জোর দিতে হবে। জঙ্গলের জমি হাত বদল হয়ে যাচ্ছে। তরাই-ডুয়ার্সের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেটা রুখতে হবে।’
এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ৫ জুন ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত রাজ্যব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযানের উল্লেখ করেছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রাগুলি হলো—জেলা/পুরসভা স্তরে প্রায় ৫,০০০টি, ব্লক স্তরে ১০০টি, পুরসভা স্তরে ২০০টি, পৌরনিগম/বরো স্তরে ৩০০টি এবং প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রে ১,০০০টি চারাগাছ লাগানো হবে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনে নিয়ম না মানার অনুযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘বৃহত্তর কলকাতা কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হচ্ছে। যাঁরা বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করেন, তাঁরা জানেন যে কোনও বিল্ডিং প্ল্যানে এক-তৃতীয়াংশ সবুজ রাখতে হয়। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না। ইকো ক্লাব তৈরি করলে আর্থিক সহায়তা রাজ্য সরকারের পক্ষে দেওয়া হবে।’




