ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীতে নানা অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই রাজ্য সরকার কোন নীতি-আদর্শ নিয়ে চলবে সেটাও সোমবার জানিয়ে দেন তিনি। রেড রোডে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করে দিন শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর সেখান থেকে মিত্র ইনস্টিটিউশনে যান। সেখান থেকে তিনি আসেন দলের কার্যালয় মুরলিধর সেন লেনে। আর এখান থেকেই বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস জমানাকে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে ভবানীপুরে মিত্র ইনস্টিটিউশনের ছাত্র ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে মিত্র ইনস্টিটিউশনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও। এখানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দুটি ভূমিকা। একটি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। একটি বিধায়ক হিসাবে। দুই শিক্ষামন্ত্রী আছেন। পশ্চিমবঙ্গের পাঠ্যপুস্তকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের যে ভূমিকা ছিল তা আগামী শিক্ষাবর্ষে থাকবে। ঘরে ঘরে পূজিত হবেন শ্যামাপ্রসাদ। বাম-তৃণমূল শ্যামাপ্রসাদকে ভুলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। আমি অত্যন্ত গর্বিত। এই বিদ্যালয়ের পরম্পরা ধরে রাখার দায়িত্ব আমার উপরে অর্জিত হয়েছে। আমি কথা দিচ্ছি, আমি পুর্নগঠন, পুনরায় সংস্কার করব।’
অন্যদিকে এদিন কলকাতায় আসছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই দিনটিকে মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী মিত্র ইনস্টিটিউশনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দেন, ‘১২৫ তম বর্ষে আমার কাজ এই বিদ্যালয়কে কীভাবে সাজিয়ে তোলা যায়। বিগত দিনের যাঁরা সংসদ সদস্য, বিধায়ক ছিলেন, তাঁরা কিছুই করেননি। আমি বিদ্যালয় শিক্ষামন্ত্রীকে বলেছি যে, যাতে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। বিধায়ক তহবিল থেকে বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা দেব এই আর্থিক বর্ষে। অটলবিহারী বাজপেয়ীর নামাঙ্কিত যে স্কিম রয়েছে, তার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উচ্চশিক্ষা সচিবকে বলব।’
তাছাড়া বাম-তৃণমূল জমানায় যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সম্মান দেওয়া হয়নি সেটাও উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়। তাই মুরলিধর সেন লেনের কার্যালয়ে গিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্য নিয়ে তাঁদেরই বিচারধারার উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। ৩৪ বছরের বাম আমল এবং ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় এই মহামানবের যে আত্মত্যাগ এবং অবদান সেটাকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছিল। এবার তা পুনরায় ফিরিয়ে এনে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই আমার সরকারের মূল লক্ষ্য। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এই ১২৫তম জন্মজয়ন্তীকে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখতে একযোগে রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলা, মহকুমা, ব্লক এবং পুরসভাগুলিতে সরকারি এবং বেসরকারি স্তরে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এই মহামানব যদি না থাকতেন, তবে আজকে আমাদের আগের পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশে থাকতে হতো। সেখানে থাকলে আমাদের কী পরিণতি হতো তা আমরা প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়া, ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়া-সহ ওখানে থাকা আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে শুনতে ও দেখতে পাই।’




