একুশের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় রাজ্যে মৃত বিজেপি কর্মীদের পাশে থাকার কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েই সেই কথা রাখলেন তিনি। এবার নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারকে দেওয়া চাকরির প্রতিশ্রুতি রাখলেন তিনি। রবিবার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারের সভা থেকে বড় ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারী। আর আগে রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে শুধুই দুর্নীতি এবং অপশাসন ছিল বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করলেন তিনি।
এদিকে জুন মাসেই ৩১৫ জন মৃতের বিজেপি কর্মীদের পরিবারের একজন সদস্যকে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া হবে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা বলে জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে নিউটাউনের মঞ্চ থেকে আগের শাসকদলকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই পচা-দুর্গন্ধ। কী করে গেছে আগের সরকার? দুর্নীতি আর অনিয়মের যা বহর দেখছি, তাতে এরপর তো মনে হচ্ছে ব্রিগেডকে জেল বানাতে হবে।’
অন্যদিকে একুশের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জিতে আসার পর জেলায় জেলায় বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার চালিয়েছিল। কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর এবং ৩২১ জন বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তারপর পেরিয়ে গিয়েছে ৫ বছর। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ জিতিয়ে নিয়ে এসেছে বিজেপিকে। ফলে এবার সুবিচার মিলবে বলে আশা করেছিল আক্রান্ত ও নিহতদের পরিবারের। এবার সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এছাড়া ক্ষমতায় আসার পর কর্মীদের মধ্যে যাতে অহংকার তৈরি না হয় সেই বিষয়ে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপি ব্যক্তিপুজোয় নয়, যৌথ নেতৃত্বে বিশ্বাসী। তারপর কর্মীদের উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, ‘আমি নয়, আমরা— এই নীতি নিয়েই চলতে হবে সকলকে। বিজেপি এই মন্ত্রেই বিশ্বাসী। নির্বাচনের আগে বিজেপির পক্ষ থেকে যে ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করা হয়েছিল, তার প্রতিটি আশ্বাসকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সংকল্প পত্রে থাকা সব প্রতিশ্রুতি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মেনে পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে।’ এবার বড় ঘোষণা করে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, চলতি মাসেই নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যের হাতে তুলে দেওয়া হবে নিয়োগপত্র। আর দেওয়া হবে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় স্বস্তিতে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।




