দীপাবলিতে বিএসএফের জওয়ানদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে বিএসএফ ক্যাম্পে পৌঁছে জওয়ানদের দীপাবলির শুভেচ্ছা জানান তিনি। একইসঙ্গে আগের সরকারের আমলে বিএসএফের সঙ্গে আচরণের জন্য ক্ষমাও প্রার্থনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন তিনি। সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন থানা তৈরি করা হবে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্তে গিয়ে জওয়ানদের মিষ্টিমুখ করিয়ে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীদের আপনজন হয়ে উঠলেন তিনি। তবে এদিন শুভেন্দুর সফরের সবচেয়ে বড় চমক ছিল তাঁর নতুন ঘোষণায়।
এদিকে ২০২৭ সাল থেকে বিএসএফের ভাল কাজের স্বীকৃতি দিতে চালু হবে বিশেষ সীমান্ত মিত্র পুরষ্কার। এদিন কলকাতা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে হিঙ্গলগঞ্জ বিএসএফ ক্যাম্পে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। জওয়ানদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। এখানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হৃদয় থেকে আমি বিএসএফের সমস্ত জওয়ানকে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানাই। আর আগের সরকারের আমলে বিএসএফের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছিল, তার জন্য ক্ষমা চাইছি। সীমান্তে ভাল কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০২৭ সাল থেকে ‘সীমামিত্র সম্মান’ দেবে রাজ্য সরকার। তাতে আরও উৎসাহিত হবেন বিএসএফ জওয়ানরা। আলোর উৎসব দ্বিগুণ আনন্দের হয়ে উঠুক জওয়ানদের কাছে।’
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন বিএসএফ কর্তারা। পালটা মুখ্যমন্ত্রী জওয়ানদের জন্য ঝুড়িভর্তি মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিলেন। নিজের হাতে সেই মিষ্টি বিলিয়ে দেন। উপহার হিসেবে জওয়ানদের হাতে তুলে দেন বেশ কিছু প্রদীপও। আর মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জওয়ানরা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। আগের সরকারের আমলে বিএসএফ ও সিআরপিএফের মতো কেন্দ্রীয় বাহিনী সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য করা হয়েছিল। ওই মন্তব্যের জবাব সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছেন। এটা স্বামী বিবেকানন্দের মাটি। তিনি বলেছিলেন, চরৈবেতি, চরৈবেতি। অর্থাৎ এগিয়ে চলতে হবে। পিছনে যা হয়ে গিয়েছে, তা ছেড়ে এবার সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে কোনওরকম আপস করতে রাজি নয় রাজ্য সরকার। দেশের নিরাপত্তা এবং সীমান্ত সুরক্ষা আমার সরকারের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। গত সরকার আপনাদের সঙ্গে কোনও সহযোগিতা করেননি। কাঁটাতারের জন্য জমি আটকে রেখেছিল। আমরা ক্ষমতায় এসেই সেই জমি দিয়ে দিয়েছি। লাগলে সীমান্ত সুরক্ষিত করতে আরও জমি দেব।’
তাছাড়া জওয়ানদের কাজের স্বীকৃতি দিতেও বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৭ সাল থেকে ভাল কাজের জন্য বিএসএফের জওয়ানদের সীমান্ত মিত্র পুরষ্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সীমান্তের প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালনকারী জওয়ানদের উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনেও বিএসএফের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘ভাল কাজের জন্য জওয়ানদের ‘সীমামিত্র সম্মান’ দেবে রাজ্য সরকার। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে সেই সম্মান চালু হবে।’




