শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বনদপ্তর ও ন্যাশনাল টাইগার (Tiger) কনজারভেশন অথরিটির যৌথ উদ্যোগে বক্সা টাইগার রিজার্ভ ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাঘিনিকে (Tiger) বড় সফট এনক্লোজারে ছাড়া হয়। অনুষ্ঠান লাইভ স্ক্রিনেও দেখানো হয়। এদিন অনুষ্ঠান থেকে আগের সরকারকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। এই প্রকল্পের জন্য আগের সরকার সেভাবে কিছুই করেনি বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সেই সঙ্গে তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি প্রসঙ্গ তুলে ধরে আলিপুরদুয়ারের উন্নতি করার আশ্বাস দেন তিনি (Suvendu Adhikari)।
বুধবার বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে আলিপুরদুয়ারের বক্সায় আনা হয়েছিল তিন বছরের রয়্যাল বাঘিনিকে। সেদিন সারাদিনই বিশ্রাম নেয় সে। খাবারের প্রতি তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার সকালে থেকে তার আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন বনকর্তারা। ঘেরাটোপের ভিতরে পায়চারি করতে দেখা যায়। পরে প্রায় ১০ কেজি টাটকা মাংস খুব দ্রুত সে শেষ করে ফেলে।
আজ থেকেই বক্সায় শুরু হল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম সংগঠিত ব্যাঘ্র সংরক্ষণ। দীর্ঘদিন ধরেই বক্সায় স্থায়ী বাঘের উপস্থিতি নেই। ২০১৮ সালের বাঘ (Tiger) গণনাতেও এই জঙ্গলে বাঘের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছিল। বাঘের (Tiger) সংখ্যা বাড়াতেই বাল্মীকি থেকে প্রথম পর্যায়ে এই বাঘিনিকে আনা হয়েছে।
রাজাভাতখাওয়ার বিশেষ সফট এনক্লোজারে তাকে রাখা হয়েছে। তার আচরণ এবং শারীরিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন বনকর্মী ও পশুচিকিৎসেরা। বাঘিনির জন্য তৈরি ঘেরাটোপে কয়েকটি হরিণও রাখা হয়েছিল। নতুন পরিবেশে তার স্বাভাবিক শিকার প্রবৃত্তি সক্রিয় রয়েছে কি না তা দেখাই এর উদ্দেশ্য। খাওয়ার পর জল খেতেও দেখা গিয়েছে বাঘিনিকে। জলাশয়ে নেমে শরীর ঠান্ডাও করেছে বাঘিনি। তার গতিবিধির উপর নজর রাখতে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাও রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা পাইলট স্মিত মচ্ছরের, মোদীকে কী বললেন ‘নায়ক’?
বক্সায় পৌঁছনোর আগে দীর্ঘ সফর করতে হয়েছে বাঘিনিকে (Tiger)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ট্রাঙ্কুলাইজ করার পর প্রথমে সড়কপথে বাল্মীকি থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরের গোরক্ষপুর বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় থাকে। সেখান থেকে বিশেষ বিমানে পৌঁছয় আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা বিমানঘাঁটিতে।
এরপর আরও প্রায় ৩৭ কিলোমিটার সড়কপথ পেরিয়ে বক্সায় পৌঁছয় বাঘিনি (Tiger)। দীর্ঘ যাত্রার ধকল কাটাতেই বুধবার তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখা হয়েছিল। বক্সায় পৌঁছনোর পর পশুচিকিৎসকেরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
আরও পড়ুন: ‘আমাকে বারবার মারছিল’, ককপিটে হামলার ঘটনার ভয়াবহ ভিডিও প্রকাশ্যে
তবে এদিনই বাঘিনিকে (Tiger) সরাসরি গভীর জঙ্গলে ছাড়া হবে না। প্রথমে ২.২ হেক্টরের বড় ঘেরাটোপে রেখে তার আচরণ, শিকার করার ক্ষমতা এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন খতিয়ে দেখা হবে। এর পরবর্তী ধাপে তাকে সম্পূর্ণ মুক্ত জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। বক্সায় ফের একটি প্রজননক্ষম বাঘের জনসংখ্যা গড়ে তোলাই বন দপ্তরের লক্ষ্য। একটি পুরুষ বাঘ এবং দু’টি বাঘিনি নিয়ে একটি ইউনিট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরবর্তী বাঘ আনার আগে বাঘিনির অভিযোজন ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আগামী দু’বছরের মধ্যে অন্য রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে আরও কমপক্ষে ছ’টি বাঘ বক্সায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
দেখুন:




