চলতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কারণে রাজ্যের গণপরিবহন ব্যবস্থায় বদল ঘটনো হয়েছে। নির্বাচন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পরিবহণ দপ্তর বিপুল সংখ্যক সরকারি ও বেসরকারি বাস ভোটের কাজে অধিগ্রহণ করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শহর ও শহরতলির সাধারণ যাত্রী পরিষেবায়। রাস্তায় বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।
অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—প্রায় সবাইকেই বাড়তি সময় হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে হচ্ছে। তবুও গন্তব্যে পৌঁছনো সময়মতো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে বাস না পাওয়ায় ভিড় বাড়ছে বিকল্প পরিবহণ যেমন অটো, ট্যাক্সি এবং অ্যাপ-ভিত্তিক গাড়িতে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও উঠছে। ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবাতেও যাত্রীচাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
Advertisement
পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় আড়াই হাজার বেসরকারি বাস ভোটকাজের জন্য নেওয়া হয়েছে, যেগুলি বিভিন্ন জেলায় ভোটকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে বাস পরিষেবা অনেকটাই কমে গেছে।
Advertisement
২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট শেষ হলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। কারণ সামনে রয়েছে দ্বিতীয় দফার ভোট, যা আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হবে, এবং তার পর ৪ মে ভোটগণনা। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাস পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়া কঠিন।
বাসমালিক সংগঠনগুলির মতে, সরকারি নির্দেশ মেনে বাস তুলে দেওয়ায় সাধারণ রুটে পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সংগঠনের একাংশের ধারণা, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
বাস সার্ভিসের নেতা টিটু সাহা জানিয়েছেন, ভোট প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাস ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটের পর কিছু বাস ফেরত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও তাতেও পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন।
পরিবহন দপ্তর অবশ্য জানিয়েছে, নির্বাচন একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব, তাই তা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করাই অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে যাত্রীদের সমস্যার দিকটিও নজরে রাখা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে ভোটপর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের গণপরিবহন ব্যবস্থায় স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত।
Advertisement



