ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে এবং আগামী ২১ মে সমস্ত ২৮৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোট গণনা হবে ২৪ মে। এর আগে এই কেন্দ্রের ৬০টি বিতর্কিত বুথকে ঘিরে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, এই বুথগুলিতে দায়িত্বে থাকা ফার্স্ট, সেকেন্ড ও থার্ড পোলিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার এবং অবজার্ভার—সব মিলিয়ে ২৪২ জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এই রিপোর্ট জমা দেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের মধ্যে অনেককে সাসপেন্ড করা হতে পারে, এমনকি চাকরি নিয়েও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের দিন ফলতার একাধিক বুথে ইভিএমে বিজেপির প্রতীকের উপর টেপ লাগানোর অভিযোগ সামনে আসে, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। যদিও রিটার্নিং অফিসার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন, তবুও সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠে। জানা গিয়েছে, বিষয়টি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে পৌঁছনোর সময় ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নিতে সেই হার বেড়ে ৬২ শতাংশে পৌঁছে যায়। কেন দ্রুত ভোট প্রক্রিয়া স্থগিত করা হল না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
Advertisement
এদিকে কমিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা কলকাতায় বসে সংশ্লিষ্ট বুথগুলির ওয়েবকাস্টিং ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। কোথায় কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কঠোর শাস্তির সুপারিশ করেছেন। উল্লেখ্য, পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বে থাকা আইপিএস অজয়পাল শর্মা এলাকায় সক্রিয় থাকলেও, অভিযোগ উঠেছে যে তিনি রিগিং রোধে ব্যর্থ হয়েছেন। এই বিষয়েও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
Advertisement
Advertisement



