আত্মগোপন করেও শেষরক্ষা হল না বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের। দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে ওড়িশার পুরী থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরীর একটি হোটেলে গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তদন্তকারীরা অভিযান চালিয়ে বুধবার হোটেল লিলি থেকে তাঁকে আটক করে।
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই দিলীপ মণ্ডলকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়। সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে বিতর্কিত মন্তব্য করতে এবং বিরোধী দল বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে হুমকিসূচক বক্তব্য রাখতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘১৫ বছর ধরে অনেক সংযম দেখিয়েছিলাম, শান্তিতে রেখেছিলাম। কিন্তু আর তা হবে না।’ এই ভিডিও সামনে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়। যদিও ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও যাচাই হয়নি।
Advertisement
এরপর থেকেই দিলীপ মণ্ডলকে ঘিরে পুলিশের তৎপরতা বাড়তে থাকে। গত ১৪ মে তাঁর পৈলানের বাড়িতে পুলিশ ও র্যাফ যৌথভাবে তল্লাশি চালায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সেই তল্লাশি অভিযান। বাড়ির বিভিন্ন নথি, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। সেই অভিযানে বিধায়কের বাড়ির বিলাসবহুল জীবনযাপনের নানা দিক সামনে আসে। দেখা যায়, ওই বাড়িতে রয়েছে একাধিক দামি গাড়ি, সুইমিং পুল, বিশেষ কাঠের আসবাবপত্র, রয়েছে বড়ো বাগানও। আবার সেখানে রয়েছে দোলনা ও বাঘ, হরিণের পাশাপাশি শৌখিন সব মূর্তিও। এমনকি বাড়ির মধ্যে একটি কৃত্রিম গুহা থাকার বিষয়টিও সামনে আসে। তবে তল্লাশির পর থেকেই কার্যত বেপাত্তা হয়ে যান তিনি।
Advertisement
অন্যদিকে, তদন্ত চলাকালীন গত ১৭ মে বিধায়কের ছেলে অর্ঘ্য মণ্ডলের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হয়। রাজ্য পুলিশের টাস্ক ফোর্স ও ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে বকখালি ও ফ্রেজারগঞ্জ এলাকা থেকে অর্ঘ্য-সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি। অভিযোগ, এলাকায় অশান্তি তৈরির চেষ্টার সঙ্গে তাঁরা জড়িত ছিলেন।
Advertisement



