• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 21 June, 2026

প্রথম বাজেটে কী চমক? প্রতিশ্রুতি পূরণে কতটা এগোবে শুভেন্দু সরকার, তাকিয়ে বাংলা

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা —মূল্যবৃদ্ধির চাপের মধ্যে স্বস্তি, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা, ভালো রাস্তা, দ্রুত প্রশাসনিক পরিষেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পে আরও বেশি সুবিধা

Image: ANI

রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। আর সেই বাজেট ঘিরে প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে। কারণ, ভোটের আগে দেওয়া একাধিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রথম বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে চলেছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। তার উপর কেন্দ্রের তরফে বিপুল আর্থিক সহায়তার আশ্বাস এবং ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা—সব মিলিয়ে মানুষের প্রত্যাশাও এবার অনেক বেশি।

নির্বাচনী সংকল্পপত্রে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র উপর। দীর্ঘদিন ধরে ডিএ নিয়ে আন্দোলন চলছে। তাই বাজেটে ডিএ সংক্রান্ত কোনও বড় ঘোষণা আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে সরকারি কর্মচারী মহল।

একইসঙ্গে নজরে রয়েছে মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা, প্রবীণদের ভাতা, কৃষকদের সহায়তা বৃদ্ধি, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং নতুন শিল্প বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলি। নির্বাচনের আগে বিজেপি দাবি করেছিল, সরকারি প্রকল্পগুলিকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। সেই লক্ষ্য পূরণে জনকল্যাণ শিবির, অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং সরাসরি পরিষেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

পরিকাঠামো উন্নয়নও বাজেটের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই রেল, সড়ক, জল জীবন মিশন এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার সহায়তার কথা জানিয়েছে। ফলে রাজ্যের তরফে সড়ক, সেতু, নগর উন্নয়ন, পানীয় জল, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতে বড়সড় বিনিয়োগের রূপরেখা দেখা যেতে পারে।

শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, এমএসএমই-কে সহায়তা, লজিস্টিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করা, পর্যটন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে গতি আনার মতো বিষয়গুলি বাজেটে গুরুত্ব পেতে পারে। সম্প্রতি পরিবহণ ও শিল্প দপ্তরের তরফে যে রোডম্যাপের কথা বলা হয়েছে, তার প্রতিফলনও বাজেটে দেখা যেতে পারে।

কৃষিক্ষেত্রেও প্রত্যাশা কম নয়। কৃষক সম্মান, সেচ ব্যবস্থা, ফসল সংরক্ষণ, মৎস্যচাষ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নতুন প্রকল্প বা অতিরিক্ত বরাদ্দের আশা করছেন গ্রামীণ এলাকার মানুষ। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা —মূল্যবৃদ্ধির চাপের মধ্যে স্বস্তি, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা, ভালো রাস্তা, দ্রুত প্রশাসনিক পরিষেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পে আরও বেশি সুবিধা। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বারবার ‘সংকল্পপত্রের প্রতিশ্রুতি পূরণ’-এর কথা বলেছে।

তাই প্রথম বাজেটকে অনেকেই দেখছেন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রূপরেখা হিসেবে। ফলে  বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসেব নয়, আগামী পাঁচ বছরের শাসনদর্শন এবং উন্নয়নের অগ্রাধিকারও স্পষ্ট করে দিতে পারে। এখন দেখার, মানুষের প্রত্যাশা আর সরকারের প্রতিশ্রুতির মধ্যে কতটা সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের প্রথম বাজেট।