এবার দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রি নিয়ে দু্র্নীতির অভিযোগ উঠল প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তাঁর স্ত্রীও এই কাজে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে পুজোর টিকিট বিক্রির অভিযোগে সস্ত্রীক রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করল একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা। বউবাজার থানায় স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তাঁরা দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বেআইনি বাণিজ্য চক্র চালাতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। একের পর এক নেতা-কর্মী এখন শ্রীঘরে। হেভিওয়েট নেতারাও এখন জেলে বন্দি রয়েছেন। এই আবহে সামনে এল ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে চড়া দামে দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রি করতেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন। বেআইনিভাবে প্রিপুজোর টিকিট বিক্রি করত মন্ত্রীর স্ত্রীয়ের সংস্থা। ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থার পরামর্শদাতা জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। ইন্দ্রনীল সেন-মধুছন্দা সেন ছাড়াও এই দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়িয়েছে আরও তিনজনের।
অন্যদিকে জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ২০২২ সালে একটি সংস্থা গড়ে তোলা হয়। যার প্রেসিডেন্ট মধুছন্দা সেন। তিনি ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী। ওই সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইউনেস্কো তাদের সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে এবং পার্টনার হয়েছে। ইউনেস্কো ২৪টা দুর্গাপুজোর মণ্ডপকে বেছে নিয়েছে। অথচ এটা একেবারেই মিথ্যে। একটা দুর্গাপুজোর উপর ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। সেটা সম্পূর্ণ ভুয়ো। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২ সালে মাসআর্ট নামে সংস্থা আত্মপ্রকাশ করে। যেখানে ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী প্রেসিডেন্ট। ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণা করেন তাঁরা।
তাছাড়া ইউনেস্কোর লোগো এবং নাম ব্যবহারের কোনও অনুমতি দেননি বলে দাবি জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের। ইউনেস্কোর সেই ইমেইল এবং নথিপত্র অভিযোগপত্রের সঙ্গে জমা দিয়েছেন তিনি। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্দ্রনীল সেন। আর এই বিষয়ে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘২০২২-২৩ সাল নাগাদ আমরা প্যারিস অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আর দিল্লি অফিসের সঙ্গেও যোগাযোগ করি। ২০২৫ সালে ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আমার সঙ্গে ৪৫ মিনিট ফোনে কথা হয়। ওই সংস্থা যে পুজোগুলি বেছে নিত, সেই পুজোগুলিই পুরষ্কার পেত। বড় বড় স্পনসর পেত। গত তিনবছর ধরে কোটি কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। যা ঢুকেছে ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রীর সংস্থায়।’




