মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ছক ফাঁস হয়ে গেল। বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কাশ্মীরের জইশ জঙ্গি হামিদ মণ্ডল। জৈশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি হামিদ মণ্ডল এখানে বসেই এই হত্যার ছক কষেছিল বলে সূত্রের খবর। বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলায় ঘাঁটি গেড়ে বসবাস করছিল এই সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর জঙ্গি এই হামিদ মণ্ডল। ধৃত হামিদের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি এবং সূচি। সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যার ছক কষা হয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। জইশ গোষ্ঠীর এই জঙ্গির থেকে এমন কিছু বিস্ফোরক তথ্য মিলেছে, যা নিয়ে এখনও তদন্তকারী অফিসাররা মুখ খুলতে চাইছেন না।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় ডিটেইলস মিলেছে ওই জইশ জঙ্গির কাছ থেকে। কোন জেলায় কবে মুখ্যমন্ত্রী যাবেন তার তথ্যও রয়েছে জঙ্গি হামিদ মণ্ডলের কাছে। রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই কুখ্যাত জঙ্গিকে। পুলওয়ামা হামলার ঘটনায় জড়িত সাজ্জাদ ভাটের ঘনিষ্ঠ হামিদ মণ্ডল এখানে নাশকতা ঘটাতে চেয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। বর্ধমান শহরের জনবহুল এলাকা দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে বর্ধমানের অভিজাত আবাসন ‘রেনেসাঁ কমপ্লেক্স’ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হামিদকে। ওই আবাসনের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছিল ধৃত জঙ্গি।
রাজ্যে এখন অনুপ্রবেশ নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। বিজেপি সরকারের এই নীতির পরই আঁটোসাঁটো করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সীমান্ত। তারপরও এই জঙ্গি গ্রেপ্তার হওয়ায় তা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উদ্বেগের বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করে হামলার ছকের কথা জানতে পেরেই সেটা গোয়েন্দাদের মাথাব্যথা হয়ে উঠেছে। বর্ধমান পুলিশ এবং এসটিএফ যৌথ অভিযান চালিয়ে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেপ্তার করেছে জঙ্গি হামিদকে। তদন্তে নেমে এসটিএফ জানতে পেরেছে, বর্ধমানের আগে নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকত ধৃত জঙ্গি। এই জায়গা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ফ্ল্যাট খুব বেশি দূরে নয়। তাই তদন্তকারীরা মনে করছেন ছক কষা অনেকদিন আগে থেকেই শুরু হয়েছিল।
তাছাড়া আর যে তথ্য উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে সেটা হলো, শুভেন্দু অধিকারী যে রাস্তা দিয়ে নিউটাউনের ফ্যাটে ফিরতেন সেই সব রাস্তায় হামিদ মণ্ডল রেইকি করেছিল। টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখা গিয়েছে, জইশের হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখত জঙ্গি হামিদ মণ্ডল। এই জঙ্গি হামিদ মণ্ডল আসলে পাকিস্তানের নাগরিক। এমনই তথ্য হাতে পেয়েছে এসটিএফ। যদিও তা নিয়ে কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না। এই জঙ্গিকে নিউটাউনে যাঁরা ঘর ভাড়া দিয়েছিলেন তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন তদন্তকারীরা। আর বর্ধমানের ফ্ল্যাট কেমন করে ভাড়া পেয়েছিল এই জঙ্গি সেটাও খতিয়ে দেখতে চাইছেন এসটিএফের কর্তারা। আরও তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে বর্ধমান আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন এনএসজি কম্যান্ডার দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘রাজ্যে সরকার বদলের পর পুলিশের মানসিকতা বদলেছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে। তাদের কাজ আরও ভাল হয়েছে। এই জঙ্গিরা ওভার দ্য গ্রাউন্ড সমর্থন পেয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে যেমন তাদের সাপোর্ট ভাঙা হয়েছে। আমাদের এখানেও তাই করতে হবে।’




