২০০৯ সালের ১৪ জুন লালগড়ের ধরমপুরে সিপিএম নেতা প্রবীর মাহাতোকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল। এই ঘটনায় পুলিশ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। নিম্ন আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন এক অভিযুক্ত মারা যায়। বছরের পর বছর ধরে কলকাতা নগর দায়রা আদালতে এই মামলা শুনানির জন্য উঠলেও এখনও পর্যন্ত সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। সুবিচার পাইনি সিপিএম নেতার পরিবার।
চলতি সপ্তাহে এই মামলার চার্জ গঠন সম্পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এক অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় চার্জ গঠন প্রক্রিয়া ফের পিছিয়ে যায়। অভিযুক্ত সন্তোষ মাহাতোর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও মামলার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সমালোচনা আদালতের। কলকাতা নগর দায়রা আদালতে চলা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) একটি মামলায় অভিযুক্ত সন্তোষ মাহাতোর বিরুদ্ধে এক হাজার টাকার জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। দীর্ঘদিন ধরে চার্জ গঠনের শুনানি বিলম্বিত হওয়ায় প্রধান বিচারক সুদীপ্ত কুমার দে এই নির্দেশ দেন।
২০০৯ সালের ১৪ জুন লালগড়ের ধরমপুরে সিপিএম নেতা প্রবীর মাহাতোকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুনের মামলায় চার্জ গঠনের শুনানির জন্য ১৫ জন অভিযুক্ত আদালতে হাজির হয়েছিল। তবে সন্তোষ মাহাতো চিকিৎসাজনিত কারণ দেখিয়ে অনুপস্থিত থাকার আবেদন জানান। সেই সঙ্গে মেডিক্যাল নথিও পেশ করেন। এনআইএ-র পক্ষের আইনজীবী অরুণ কুমার মাইতি জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর হয়ে গেল এখনও পর্যন্ত এই মামলার বিচার হল না। বারবার কেউ না কেউ অনুপস্থিতির কারণে চার্জ গঠন বিলম্ব হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে মামলার চার্জ গঠন করতে আরও ১৭ বছর লেগে যেতে পারে।
আইনজীবী অরুণ কুমার আদালতের কাছে এ বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত সন্তোষ মাহাতোর আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ২০০৯ সালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর পরেও চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। এর আগে ২১ মে ২০২৬-এর শুনানিতে সন্তোষ মাহাতোকে ‘শেষ সুযোগ’ দিয়ে পরবর্তী তারিখে সশরীরে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একই কারণ দেখিয়ে পুনরায় অনুপস্থিত থাকায় আদালতের নির্দেশ অমান্যের বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয়। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৪ আগস্ট।
২০০৯ সালের ১৪ জুন লালগড়ের ধরমপুরে সিপিএম নেতা প্রবীর মাহাতোকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি ওই বছর ঝাড়গ্রামের কাছে রাজধানী এক্সপ্রেস দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার ঘটনাতেও সন্তোষ মাহাতোর বিরুদ্ধে মূলচক্রী হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এই সব ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা, ইউএপিএ, বেআইনি সমাবেশ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। প্রথমে রাজ্য পুলিশের হাতে তদন্ত থাকলেও পরে তদন্তভার গ্রহণ করে এনআইএ। এই মামলায় পিসিপিএপিএ নেতা ছত্রধর মাহাতো, শশধর মাহাতো এবং মাওবাদী নেতা কিষেণজিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছিল।




