সর্বমঙ্গলা মন্দিরে বন্ধ হয়েছে মোষবলি। বর্ধমানের আরও কয়েকটি প্রাচীন মন্দিরেও বন্ধ হয়েছে পশুবলি প্রথা। কিন্তু সাড়ে চারশো বছরের ঐতিহ্য আঁকড়ে আজও নবমীতে মোষবলি হয় ইদিলপুরের ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) । যদিও সেই প্রথা নিয়ে পরিবারের অন্দরেই তৈরি হয়েছে দ্বিধা। শরিকদের বড় অংশই চান, বন্ধ হোক পশুবলি। তবু অমঙ্গলের আশঙ্কা আর দীর্ঘদিনের সংস্কারের বেড়াজাল কাটিয়ে উঠতে পারছেন না পরিবারের একাংশ।
একসময় ‘মোড়লবাড়ির পুজো’ নামে পরিচিত এই দুর্গোৎসবকে (Durga Puja) ঘিরে আশপাশের একাধিক গ্রামের মানুষের ভিড় জমত। পুজোর জৌলুস হয়তো কিছুটা কমেছে। কিন্তু সাত পুরুষ পেরিয়েও পুজোর মূল রীতিতে বদল আসেনি। বদলেছে মন্দির, আটচালা ও পুরোহিত। তবে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরের নির্ঘণ্ট মেনেই এখনও বেশ কিছু আচার পালিত হয় ঘোষ বাড়িতে। ষষ্ঠীতে বেলগাছে দেবীর আমন্ত্রণ, সপ্তমীতে দামোদর থেকে ঘট আনা, অষ্টমীতে ছাগবলি, সবই সেই পরম্পরার অঙ্গ। নবমীতে মোষ, মেষ বা ভেড়া এবং ছাগল বলি হয়। পাশাপাশি ছাঁচি কুমড়ো বলির রীতিও রয়েছে এখানে।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: সোনাগাছিতে দুর্গাপুজো, যৌনকর্মীদের সন্তানদের প্রতিভা তুলে ধরার উদ্যোগ
তবে ঐতিহ্যের আড়ালে অস্বস্তিও ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের একাশ চান পশুবলি বন্ধ হোক। কিন্তু পুরোহিত ও পণ্ডিতদের সঙ্গে আলোচনা করেও বলি বন্ধের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তাঁরা। প্রাচীন প্রথা বন্ধ হলে দেবী রুষ্ট হবেন। ঘটতে পারে অঘটন। পরিবারে অমঙ্গল হতে পারে, এই আশঙ্কায় তাঁদের একাংশ পিছিয়ে যাচ্ছেন। তাই পশুবলি বন্ধ করতে রাজ্য প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন ঘোষ পরিবারের সদস্যেরা।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: বাঙালির ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে মহালয়ার ভোরের বীরেন্দ্রকৃষ্ণের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’
বর্ধমান সর্বমঙ্গলা মন্দির ট্রাস্ট বোর্ডের আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষের কথায়, সরকারি নিয়ম মেনে ২০১৫-য় ওই মন্দিরে বলি বন্ধ হয়েছে। কমলাকান্তের কালীবাড়ি ও বড়মা মন্দিরেও বন্ধ হয়েছে এই প্রথা। স্থানীয়দের দাবি, জেলায় ইদিলপুরের ঘোষবাড়ি ছাড়া আর কোথাও মোষবলি চালু নেই। বিতর্কের মাঝেও এই পুজো অবশ্য পরিবারের মিলনক্ষেত্র।
ঘোষ পরিবারের ছ’টি পৃথক পরিবারের প্রায় ৫০ জন সদস্য সারা বছর আলাদা সংসারে থাকলেও পুজোর দিনগুলিতে এক ছাদের নীচে আসেন তাঁরা। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-পড়শিদের ভিড়ে গমগম করে ঘোষবাড়ি। দশমীতে শোভাযাত্রা করে দেবীকে কাঁধে করে নিয়ে যাওয়া হয় দামোদরে। সেখানেই বিসর্জন। ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার উৎসবের পাশাপাশি তাই এবার ঘোষবাড়ির পুজোয় বড় হয়ে উঠেছে এক প্রশ্ন, সময়ের কি সঙ্গে বদলাবে পরম্পরা?
দেখুন:




