• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 1 October, 2026

হিজাব পরা মহিলা বিচারককে দেখে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান অভিযুক্তের, আদালতকক্ষে আলোড়ন

তাছাড়া আদালতের অভ্যন্তরীণ প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য তথা শিলিগুড়ি মহকুমা

হিজাব পরা মহিলা বিচারককে দেখে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান অভিযুক্তের, আদালতকক্ষে আলোড়ন

Siliguri Court Photo-SNS

আদালতকক্ষে স্লোগান। তাও আবার মহিলা বিচারককে উদ্দেশ্য করে। স্লোগান দিল খোদ অভিযুক্ত। অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন স্লোগান তোলায় আদালতকক্ষে তুমুল আলোড়ন পড়ে গেল। মহিলা বিচারকের পরনের পোশাক দেখে এজলাসেই ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলা হল। আর নজিরবিহীন এই ঘটনার সাক্ষী থাকল শিলিগুড়ি মহকুমা আদালত। এই আদালতের ৪ নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও এমন পরিস্থিতিতে অভিযুক্তের আইনজীবী ত্রিদীপ সাহা তৎক্ষণাৎ এজলাসে ক্ষমা চেয়ে নেন। তাতে সাময়িকভাবে পরিবেশ শান্ত হয়। যদিও এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সবপক্ষের আইনজীবীরাই নিন্দা করেছেন।

হিজাব পরেছিলেন বিচারক। আর সেটা দেখে এজলাসেই ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তুললেন ওই অভিযুক্ত। তখন পরিস্থিতি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যাচ্ছে দেখে তার আইনজীবী জানান, বিচারকের উদ্দেশে এই স্লোগান দেওয়া হয়নি। কিন্তু তাতে বিশেষ চিঁড়ে ভেজেনি। বরং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশন। তবে আদালত সূত্রে খবর, ২০১৮ সালের একটি ভিনধর্মী বিয়েকে কেন্দ্র করে মামলা হয়। তখন লাভ জিহাদের অভিযোগ তুলে কিছু মানুষজন বাঘাযতীন পার্ক থেকে হিলকার্ট রোড হয়ে শিলিগুড়ি মহকুমাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি দিতে যাচ্ছিলেন। তখনই ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং পুলিশ আইনজীবী ত্রিদীপ সাহা-সহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় কয়েকজন অভিযুক্ত জামিন পেলেও বাকিদের নামে কদিন আগে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছিল। তাই শুনানির জন্যই অভিযুক্তদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ওই নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা হাজির হন শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নম্বর আদালত কক্ষে। প্রথমেই আদালতের পক্ষ থেকে নাম ধরে উপস্থিতি চাওয়া হচ্ছিল। তখন বিচারকের হিজাব দেখে এক অভিযুক্ত ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে অত্যন্ত অনভিপ্রেত বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশন। শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উদয়শঙ্কর মালাকার বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা। এজলাসের ভিতর এই ধরনের আচরণ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত এই বিষয়ে নিজস্ব ক্ষমতাবলে মামলা দায়ের করতে পারত।’

তাছাড়া আদালতের অভ্যন্তরীণ প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য তথা শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের আইনজীবী অলকেশ চক্রবর্তী। যদিও অভিযুক্তদের আইনজীবী ত্রিদিপ সাহা বলেন, ‘বহু মানুষ সম্ভাষণ জানাতে জয় শ্রী রাম, রাধে রাধে বা এমন নানা ধরনের বাক্য ব্যবহার করেন। নাম ধরে ডাকার সময় অভিযুক্তদের মধ্যে একজন না বুঝেই জয় শ্রী রাম বলে ফেলেছেন। এই ঘটনার জন্য তৎক্ষণাৎ আমি এবং আমরা ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি।’ তবে অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক দিবাকর রায় সাফ বলেছেন, ‘আদালতের এজলাস রাজনৈতিক অথবা ধর্মীয় বিতর্কের ঊর্ধ্বে নিরপেক্ষ বিচার প্রদানের এক পবিত্র স্থান। সেখানে দাঁড়িয়ে কোনও রাজনৈতিক অথবা ধর্মীয় স্লোগান তোলা সম্পূর্ণ বেআইনি।’