নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরোনোর একদিন পর কালীঘাট থানায় মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্ট লঙ্ঘনের মামলায় প্রয়োজনীয় নথি পাঠালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবারের মধ্যে তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই নথি না পৌঁছনোয় জল্পনা তৈরি হয়েছিল। রবিবার অবশ্য নিজের এক প্রতিনিধির মাধ্যমে থানায় বেশ কিছু কাগজপত্র পাঠান ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ।
তবে তাতেও স্বস্তি মেলেনি। পুলিশ সূত্রের দাবি, তদন্তের প্রয়োজনে যে সমস্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল, তার বড় অংশই দেওয়া হয়নি। তদন্তকারীদের মতে জমা পড়া নথি ‘অসম্পূর্ণ’। সেই কারণেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের নতুন করে নোটিস পাঠানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকারের অভিযোগকে ঘিরে। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে থাকা গাড়িতে দুই নিরাপত্তারক্ষীকে বিপজ্জনকভাবে ঝুলে যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্টের ১২৩ ধারা অনুযায়ী চলন্ত গাড়িতে এভাবে ঝুলে যাতায়াত আইনবিরুদ্ধ। পাশাপাশি ১৮৪ ধারায় বিপজ্জনকভাবে যানবাহন ব্যবহার বা যাতায়াতকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কালীঘাট থানায় মামলা দায়ের হয় এবং তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একাধিক তথ্য তলব করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট গাড়িটি কবে কেনা হয়েছে, চালকের পরিচয় ও ঠিকানা, গাড়ির নথিপত্র, এমনকি যাঁদের গাড়িতে ঝুলতে দেখা গিয়েছে তাঁদের পরিচয়ও জানতে চেয়েছিলেন তদন্তকারীরা। এর জবাবে নিজের লেটারহেডে লেখা একটি চিঠি এবং কয়েকটি নথি রবিবার থানায় পাঠান অভিষেক। তবে তদন্তকারী সূত্রের দাবি, যে সমস্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল তার অধিকাংশই দেননি সাংসদ।
এমনিতেই একাধিক বিতর্ক ও মামলায় নাম জড়িয়েছে অভিষেকের। বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সই জাল কাণ্ড এবং ডিজে মন্তব্য মামলাও অভিষেকের রাজনৈতিক ও আইনি চাপ বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্টের এই মামলা তৃণমূলের শীর্ষ নেতার অস্বস্তি আরও বাড়াল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




