বিজয়া দশমীর রাতে তখন মানুষের মন ভারাক্রান্ত। দুর্গাপুজো শেষ হয়ে মাকে ভাসান দিতে হয়েছে। ওই নির্জন রাতেই এলাকায় রাস্তার পাশের ড্রেন থেকে ভেসে আসছিল সদ্যোজাত শিশুর কান্নার আওয়াজ। যা সকলকে মুহুর্তের মধ্যে চমকে দিয়েছে। তাই তো সেই আওয়াজ অনুসরণ করে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিছুক্ষণ পরেই নজরে আসে এলাকার ড্রেনের মধ্যে পড়ে রয়েছে সদ্যোজাত এক পুত্রসন্তান! ওই শিশুপুত্রকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পাঠানো হয় হাসপাতালে। দশমীর রাতে ধূপগুড়ির ব্লকের বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রীতিমতো আলোড়ন পড়ে যায়। কারণ শিশুটির নাড়িও কাটা হয়নি বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। কারা সদ্যোজাতকে ফেলে গেল তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের উপস্থিতিতে সদ্যোজাতকে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিজয়া দশমীর রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে ধূপগুড়ি ব্লকের বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ খয়েরবাড়ির ডাংধড়ি কলোনি এলাকায়। দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনে যখন ব্যস্ত ছিলেন সকলে তখন সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এই কাজ কেউ করেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান। শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দা টুনিবালা রায়। স্থানীয় দাইমাকে ডেকে শিশুটির নাড়ি কাটা হয়। তারপর খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। ওই শিশুটি এখন জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, চিকিৎসার পর শিশুটিকে হিটারের সাহায্যে উষ্ণ রাখা হয়। তবে এখনও চিকিৎসা চলছে। আর স্থানীয় বাসিন্দা টুনিবালা রায় জানান, সন্ধ্যায় হঠাৎ শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে উৎস খুঁজতে গিয়ে ড্রেনের মধ্যে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তারপর তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে এসে দুগ্ধ পান করানো হয়। পরে ধূপগুড়ি থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। স্থানীয় আর এক বাসিন্দা বাবলু হাজরা জানান, শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনে ঘটনাস্থলে সকলে গিয়ে ড্রেনের মধ্যে সদ্যোজাতকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে প্রায় দু’ঘণ্টা শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।
তাছাড়া কে বা কারা সদ্যোজাতকে ফেলে দিয়ে গেল সেটা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। শিশুটির বাবা-মায়ের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্ত শুরু হয়েছে। ড্রেন থেকে সদ্যোজাত উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিশুকে দেখতে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে ভিড় জমাতে দেখা যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের। একটি ফুটফুটে শিশুকে এভাবে ড্রেনে ফেলে যাওয়ার ঘটনা মানবিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিপন্থী।




