• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 6 July, 2026

পহেলগামে জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়েছিল ২ গাইড, এনআইএ চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি

সূত্রের দাবি, পারভেজ ও ওয়াশির আহমেদ নামে দুই স্থানীয় গাইড আগেভাগেই জঙ্গিদের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতেন

পহেলগামে জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়েছিল ২ গাইড, এনআইএ চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি

কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় তৈরি হওয়া এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের দাবি, পারভেজ ও ওয়াশির আহমেদ নামে দুই স্থানীয় গাইড আগেভাগেই জঙ্গিদের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের আশ্রয়, খাবার এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার।

গত বছর ২১ এপ্রিল হামলার একদিন আগে ফয়সল জাট ওরফে সুলেমান, হাবিব তাহির ওরফে ছোটু এবং হামজা আফগানি নামে ৩ জঙ্গি পহেলগাম এলাকায় ঘোরাফেরা করেছিল। তারা স্থানীয়দের কাছে আশ্রয় চায়। এনআইএ-কে দেওয়া বয়ানে ওয়াশির স্বীকার করেছেন, জঙ্গিদের দেখে তিনি বুঝেছিলেন তারা মুজাহিদ বা সন্ত্রাসবাদী।

এরপর তিনি তাঁদের একটি গাছের নীচে অপেক্ষা করতে বলে পারভেজের ঝুপড়িতে নিয়ে যান। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, পারভেজ ও তাঁর স্ত্রীকে মুখ না খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে বিকেলে ওই ৩ জঙ্গিকে ঝুপড়িতে ডাকা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, জঙ্গিদের কাছে অস্ত্রভর্তি ব্যাগ ছিল এবং তারা উর্দুতে কথা বললেও উচ্চারণে পাঞ্জাবি টান ছিল।

এনআইএ-র অভিযোগ, প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে জঙ্গিরা ওই ঝুপড়িতে ছিল। সেই সময় তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তারা অমরনাথ যাত্রা, নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প ও এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিল বলেও দাবি তদন্তকারীদের। জঙ্গিরা ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত বলে সাহায্য চাইলে তাঁদের চা-জলখাবার দেওয়া হয়।

পরে রাতের দিকে ১০টি রুটি, সবজি, রান্নার সামগ্রীও তুলে দেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হামলার দিনও ওই তিন জঙ্গিকে বৈসরন উপত্যকার কাছে দেখা গিয়েছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে ভয়াবহ হামলা হয়। ঘটনার পর পারভেজ ও ওয়াশির আত্মগোপন করেন বলেও দাবি এনআইএ সূত্রের।