কালীপুজোর প্রাক্কালে দেদার শব্দবাজি ফাটতে শুরু করেছে। রবিবার থেকে তা যে আরও বাড়বে রাজ্যজুড়ে সেটা এখন থেকেই বোঝা যাচ্ছে। তাই শব্দদূষণ ঠেকাতে এবং শিলিগুড়ি শহরকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে বড় উদ্যোগ নিল শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট। প্রায় দুশোটির বেশি মডিফাই সাইলেন্সার পাইপ রোলারের সাহায্যে গুঁড়িয়ে ধ্বংস করলেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। প্রশাসনের এই উদ্যোগের মধ্যে দিয়ে বার্তা দেওয়া হল, শহরকে শব্দদূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। সাইলেন্সার ধ্বংস করার পাশাপাশি বেআইনি প্রবণতা বন্ধ করতেও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিপুল পরিমাণ বাজি ফাটলে তা পরিবেশ দূষণও করে।
শনিবার কালীপুজোর আগের দিন নিজেই রোলারের স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে বেআইনি সাইলেন্সারগুলি গুঁড়িয়ে দিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। শিলিগুড়ি শহরে ক্রমশ বাড়ছে শব্দদূষণ। সেটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগপ্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মোটরবাইকে ব্যবহৃত অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করা মডিফাই সাইলেন্সারের দাপটে নাজেহাল হচ্ছেন শহরবাসী। ওই সমস্যার মোকাবিলায় এবার সরাসরি মাঠে নামল প্রশাসন। বাজেয়াপ্ত করা দুশোর বেশি মডিফাই সাইলেন্সার পাইপ একসঙ্গে করে রোলারের চাকায় পিষে সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করে দেওয়া হল। এই নিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘শিলিগুড়ি শহরের যে সব দোকানে মডিফাই সাইলেন্সার পাইপ বিক্রি করা হচ্ছে সেখানেও চালানো হবে বিশেষ অভিযান। এই অভিযান লাগাতার চলবে। শুধু মোটরবাইক চালকরাই নন, মডিফাই সাইলেন্সার বিক্রেতারাও থাকছেন প্রশাসনের নজরদারিতে।’
এই ধরনের বেআইনি সাইলেন্সার বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও এবার অভিযান চালানো হবে। শিলিগুড়ির যেসব দোকানে এই ধরনের সাইলেন্সার বিক্রি হয় সেই দোকানগুলিকে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। এই অভিযান আগামী দিনেও লাগাতার চলবে বলে জানান রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী। আর শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা জানান, শহরকে দূষণমুক্ত রাখতে ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ১৮ বছরের কম বয়সি কিশোরদের হাতে মোটরবাইক তুলে না দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
তাছাড়া প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার বার্তা দেন পুলিশ কমিশনার। তাঁর কথায়, ‘শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপে শব্দদূষণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। তার জন্য প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সচেতনতা। প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।’




