• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 7 November, 2026

গুরনুরের চার উইকেটে ওয়েলিংটনে ধস নিউজিল্যান্ডের! ১৩৪ রানেই শেষ স্যান্টনারদের ইনিংস

বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘন্টা পরে শুরু হয় খেলা। ৪৭ ওভারের ইনিংস নির্দিষ্ট করা হয়। ভেজা আউটফিল্ডের জন্য ম্যাচের শুরুতে অপেক্ষা করতে হয় দু’দলকে

গুরনুরের চার উইকেটে ওয়েলিংটনে ধস নিউজিল্যান্ডের! ১৩৪ রানেই শেষ স্যান্টনারদের ইনিংস

Image: X

ভারতীয় পেসারদের দাপটে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং। দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৩৪ রানেই শেষ হয়ে গেল কিউয়িদের ইনিংস। ৪১ ওভারে সব উইকেট হারালেন মিচেল স্যান্টনাররা। জয়ের জন্য ভারতের লক্ষ্য ১৩৫ রান। বল হাতে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক গুরনুর ব্রার। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিলেন অকিব নবি এবং অংশুল কাম্বোজ।

বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘন্টা পরে শুরু হয় খেলা। ৪৭ ওভারের ইনিংস নির্দিষ্ট করা হয়। ভেজা আউটফিল্ডের জন্য ম্যাচের শুরুতে অপেক্ষা করতে হয় দু’দলকে। পরিস্থিতির সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান ভারতের পেসাররা। নতুন বল হাতে শুরু থেকেই সুইং করাতে থাকেন অর্শদীপ সিং। উইল ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে প্রথম ওভারটি মেডেন করেন তিনি। বল দু’দিকে সুইং করিয়ে কিউয়ি ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলেন অর্শদীপ।

এর পরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম উইকেট তুলে নেন অকিব নবি। তাঁর বলে শূন্য রানে ফেরেন টিম সাইফার্ট। অকিবের চাপে বড় শট খেলতে গিয়ে উইল ইয়ংয়ের ব্যাটের কানায় বল লাগে। উইকেটের পিছনে সহজ ক্যাচ নেন কেএল রাহুল। ষষ্ঠ ওভারেই ১১ রানে দু’উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

আরও পড়ুন: আইএসএলে গোলের বন্যা বইয়ে আজ চেন্নাইয়ে নামছে ইস্টবেঙ্গল, হাবাস-বাহিনীকে আটকাতে মরিয়া মিরান্ডার দল

এর পর আঘাত হানেন অংশুল কাম্বোজ। হেনরি নিকোলসকে কিছুক্ষণ ধরে সুইং এবং বাউন্সে পরীক্ষা করার পরে ব্যাক অব দ্য লেংথ ডেলিভারিতে বিপাকে ফেলেন তিনি। ব্যাটের কানায় লেগে বল গড়িয়ে যায় স্টাম্পে। নিকোলস ফেরেন ১১ রানে। ৯ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান দাঁড়ায় ২৩/৩।

ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেন গুরনুর ব্রার। ৫৩ রানে তিন উইকেট পড়ার পরে টম লাথামকে সাজঘরে ফেরান তিনি। শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দেন লাথাম। পরের বলেই গ্লেন ফিলিপসকে ফেরান গুরনুর। পুল করতে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন ফিলিপস। ফাইন লেগে সহজ ক্যাচ নেন ফিল্ডার। জোড়া উইকেটের সেই ওভারটি মেডেনও করেন গুরনুর। ২০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান দাঁড়ায় ৫৩/৫।

এর পরেও থামেননি ভারতের এই তরুণ পেসার। তাঁর গতি এবং বাউন্স সামলাতে সমস্যায় পড়েন কিউয়ি ব্যাটাররা। অধিনায়ক স্যান্টনারের ব্যাটের কানায় লেগে বল জমা পড়ে রাহুলের গ্লাভসে। পরে নাথান স্মিথকে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন গুরনুর। ৩০ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়ে শেষ করেন তিনি।

এক দিকে যখন নিয়মিত উইকেট পড়ছে, তখন একা লড়াই চালান ড্যারিল মিচেল। ৫৫ রানের ইনিংস খেলে তিনিই নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তবে ব্যক্তিগত ২২ রানের মাথায় শুভমানের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান মিচেল।

আরও পড়ুন: ১৩ বছর আগে ইডেনেই টেস্ট অভিষেক, সেই ইডেনের স্মৃতি নিয়েই লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় শামির! অবসরের সিদ্ধান্ত তারকা পেসারের

কিন্তু তাঁর প্রতিরোধ ভাঙেন অক্ষর পটেল। মিচেলের ব্যাটে লেগে বল উপরে উঠে যায়। লিডিং এজে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এর পর কাইল জেমিসনকে দ্রুতগতির বলে বোল্ড করেন অক্ষর। শেষ দিকে ইয়র্কারে ব্লেয়ার টিকনারের স্টাম্প ছিটকে দেন অংশুল কাম্বোজ।

শেষ পর্যন্ত ৪১ ওভারে ১৩৪ রানেই শেষ হয় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। প্রথম এক দিনের ম্যাচে বৃষ্টিবিঘ্নিত লড়াইয়ে পাঁচ উইকেটে জিতেছিল ভারত। দ্বিতীয় ম্যাচেও বল হাতে দাপট দেখিয়ে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিলেন ভারতীয় পেসাররা। এ বার ব্যাটারদের দায়িত্ব সেই সুযোগ কাজে লাগানো।

নিউজিল্যান্ডের ইনিংস: ১৩৪ (৪১ ওভার)। ড্যারিল মিচেল ৫৫, মিচেল স্যান্টনার ৩১। ভারতের হয়ে গুরনুর ব্রার ৪/৩০, অকিব নবি ২/৩১, অংশুল কাম্বোজ ২/২৫। অক্ষর পটেলও নেন দু’টি উইকেট।

দেখুন: