• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 7 November, 2026

সদ্যজাতকে হাসপাতালের শৌচালয় থেকে ছুঁড়ে ফেলল গর্ভধারণী, উত্তরপাড়ায় হাড়হিম কাণ্ড

নার্সিংহোমের বেআইনি কার্যকলাপের বন্ধের দাবিতে সরব হন। সদ্যোজাতকে এভাবে ফেলে দেওয়া গুরুতর অপরাধ

সদ্যজাতকে হাসপাতালের শৌচালয় থেকে ছুঁড়ে ফেলল গর্ভধারণী, উত্তরপাড়ায় হাড়হিম কাণ্ড

Newborn Thrown Photo-Representative

পেটে ব্যথা নিয়ে মাঝরাতে ভর্তি হয়েছিল নার্সিংহোমে। সকাল হতেই সন্তানের জন্ম দেয় ১৬ বছরের কিশোরী। কিন্তু সদ্যোজাতকে কোলে তুলে নেওয়ার বদলে জানালা দিয়ে নীচে ছুঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল ওই গর্ভধারণী কিশোরীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনা সামনে আসতেই হাড়হিম হয়ে গিয়েছে সকলের। উত্তরপাড়ার এক বেসরকারি নার্সিংহোমের এই ঘটনায় তুমুল আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কালীপুজোর প্রাক্কালে উত্তরপাড়ার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত নার্সিংহোম লাগোয়া একটি বাড়িতে উঠোন পরিষ্কার করছিলেন এক যুবক। পাশের জঙ্গলে কিছু পড়ার আওয়াজ শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন, সদ্যোজাত একটি শিশু।

ওই যুবক এই ঘটনা দেখে চিৎকার করতেই সকলের নজরে আসে বিষয়টি। স্থানীয় সূত্রে খবর, হাওড়ার বাসিন্দা ওই কিশোরীকে মাঝরাতে পেটে ব্যথা নিয়ে নার্সিংহোমে ভর্তি করেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের দাবি, মেয়েটি যে অন্তঃসত্ত্বা, সেটা তাঁরা জানতেন না। পেটে ব্যথা শুরু হওয়ায় চিকিৎসার জন্য তাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। নার্সিংহোম সূত্রে খবর, সকালে রক্ত পরীক্ষার পর নাবালিকার পেটে ব্যথা বাড়তে থাকে। তখন সে নিজেই হেঁটে বাথরুমে যায়। সেখানেই সন্তানের জন্ম দেয়।  বেসরকারি নার্সিংহোমের শৌচালয়ে সন্তান প্রসব হওয়ার পরই সদ্যোজাতকে কোলে তুলে জানালা থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় কিশোরী বলে অভিযোগ।

নার্সিংহোমের মালিক সুচেতা মুখোপাধ্যায়ের দাবি, নাবালিকা নিজেই শিশুটির জন্ম দেওয়ার পর জানালা দিয়ে নীচে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি আড়াল করতেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে ওই কিশোরী। সুচেতা মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘নাবালিকা মাঝরাত ১টা নাগাদ ভর্তি হয় পেটে ব্যথা নিয়ে। সকালে তার রক্ত পরীক্ষা হয়। পেটে ব্যথা একটু বেড়েছিল বলে নিজে হেঁটে বাথরুমে যায়। নিজেই শিশুটিকে প্রসব করে। আর তারপর জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। কারণ তাকে প্রমাণ করতে হতো সে স্বাভাবিক আছে এবং গর্ভধারণ করেনি। তার পরিবারও নাকি জানত না।’

তাছাড়া এই এলাকার এক যুবকের বয়ানেও উঠে আসে ঘটনার ভয়াবহতা। তাঁর বক্তব্য, ‘কাজ করার সময় হঠাৎ উপর থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পাই। কাছে গিয়ে দেখি, নীচে পড়ে আছে সদ্যোজাত একটি শিশু। কিছুক্ষণের মধ্যেই নার্সিংহোমের এক নার্স সেখানে এসে শিশুটিকে দ্রুত তুলে নিয়ে যান।’ যদিও এই ঘটনার পর ফুঁসছে উত্তরপাড়ার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ঘটনা নতুন নয়। ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ভ্রুণ নষ্ট করার মতো অভিযোগ আছে। খবর দেওয়া হয় পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা গোটা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। নার্সিংহোমের বেআইনি কার্যকলাপের বন্ধের দাবিতে সরব হন। সদ্যোজাতকে এভাবে ফেলে দেওয়া গুরুতর অপরাধ। প্রশাসনের উচিত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।