• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 7 November, 2026

অভিষেককে রক্ষাকবচ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট, সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য

তাছাড়া বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে কলকাতা

অভিষেককে রক্ষাকবচ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট, সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য

Abhishek Banerjee Photo-SNS

ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রক্ষাকবচ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেল রাজ্য সরকার। গত আগস্ট মাসে তৃণমূল সাংসদকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নভেম্বর মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ রয়েছে। ওই নির্দেশ মেনে নিতে রাজি নয় রাজ্য। এবার তাই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দীপাবলির পরে সুপ্রিম কোর্ট খুললে ওই মামলার শুনানি হবে বলে খবর।

অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। যদিও তার কোনও তথ্যপ্রমাণ পেশ করা যায়নি বলে রক্ষাকবচ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বারবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে একাধিক তদন্তকারী সংস্থা ডেকে পাঠিয়েছে। প্রত্যেকবারই তিনি হাজির হয়েছেন তদন্তকারী সংস্থার সামনে। এমনকী শেক্সপিয়ার সরণি থানার তলবেও তিনি হাজির হয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন। ইদানিং সাংসদ রাজ্য সরকারের নানা কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নয়াদিল্লি গিয়েও ইন্ডিয়া জোটের সভায় যোগ দিয়েছিলেন রামলীলা ময়দানে। এই আবহে গত ২৫ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেককে রক্ষাকবচ দেয়। তখনই সেটার উপর স্থগিতাদেশ চেয়েছিল রাজ্য সরকার। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের ওই আবেদন খারিজ করে দেন।

রাজ্যের পক্ষ থেকে যুক্তি ছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি গুরুতর। ফৌজদারি মামলায় তার পৃথক আইনি প্রতিকার রয়েছে। কিন্তু তিনি সেই পথে হাঁটেননি। অভিষেক আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। সেটা না করে কেন তিনি রক্ষাকবচ চাইছেন? একাধিক এফআইআরকে একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে শুনানি করা যায় না। প্রত্যেকটি এফআইআরের জন্য পৃথক আইনি পদক্ষেপ করা উচিত। কোনও অভিযুক্তকেই একাধিক মামলায় ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু রাজ্যের এই যুক্তিতে মান্যতা দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। তাই এবার সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেল রাজ্য।

তাছাড়া বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংসদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই মামলাগুলি করা হয়েছে। অভিষেকের বিরুদ্ধে মোট ১৬টি এফআইআরের কথা কলকাতা হাইকোর্টে জানান তৃণমূল সাংসদ। তার মধ্যে ভবানীপুর, কালীতলা এবং বিষ্ণুপুর থানার মামলায় তাঁকে রক্ষাকবচ দেয় উচ্চ ন্যায়ালয়। এই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, কালীতলা এবং বিষ্ণুপুর থানার মামলায় অভিষেকের সরাসরি যোগ স্পষ্ট নয়। ওই দুটি ঘটনা কয়েক বছর আগের। কালীতলার ঘটনা ২০১৭ সালের। আর একটি হয়েছিল ২০২০ সালে বিষ্ণুপুর থানায়। তখন কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর দুটি অভিযোগই দায়ের হয়েছে।