একটা যুগের অবসান! আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর দেখা যাবে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে (Cristiano Ronaldo)। পর্তুগালের জার্সিতে ২৩ বছরের দীর্ঘ যাত্রায় ইতি টানার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন ৪১ বছরের মহাতারকা। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের কথা জানিয়ে দিলেন তিনি। ফলে পর্তুগালের বিখ্যাত ৭ নম্বর জার্সিতে আর দেখা যাবে না ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকাকে।
২০০৩-এর অগাস্টে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পর্তুগালের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo)। তার পর কেটে গিয়েছে ২৩ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের হয়ে ২৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। গোল করেছেন ১৪৬টি। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড— দু’টিই রয়েছে তাঁর দখলে। শুধু পরিসংখ্যান নয়, পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবেন তিনি।
Portugal estará sempre em mim https://t.co/dnFj51rxmh
— Cristiano Ronaldo (@Cristiano) November 5, 2026
‘৭ নম্বর জার্সি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে’
অবসরের ঘোষণা করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) বলেন, ‘পর্তুগালের মানুষকে বলতে চাই, জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে। এই জার্সিকে কখনও শুধু নিজের বলে মনে করিনি। তবে ২৩ বছর ধরে এই জার্সি পরার, তাকে রক্ষা করার এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্টেডিয়ামে বয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্মান ও দায়িত্ব পেয়েছি।’
এই সিদ্ধান্ত যে সহজ ছিল না, তা-ও বুঝিয়ে দিয়েছেন রোনাল্ডো। মাথা এবং হৃদয়— দু’দিক থেকেই ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে শুধু গোল, রেকর্ড কিংবা ট্রফিই নয়, সতীর্থ, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ এবং পরিবারের অবদানের কথাও স্মরণ করেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা (Cristiano Ronaldo)। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সমর্থকদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে দেশের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মুহূর্তগুলি তাঁর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিদায়বার্তায় রোনাল্ডো আরও জানিয়েছেন, দেশের হয়ে খেলার অধ্যায় শেষ হলেও পর্তুগালের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও শেষ হবে না। এ বার থেকে সমর্থক হিসাবেই জাতীয় দলের পাশে থাকবেন তিনি। পর্তুগাল সব সময় তাঁর হৃদয়ে থাকবে।
ট্রফি, গোল, রেকর্ডে ভরা ২৩ বছরের যাত্রা
রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় সাফল্য ২০১৬-র ইউরো জয়। ফ্রান্সের মাটিতে আয়োজিত সেই প্রতিযোগিতার ফাইনালে আয়োজকদের হারিয়ে প্রথম বার বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতেছিল পর্তুগাল। যদিও ফাইনালে হাঁটুর চোটের কারণে মাত্র ২৫ মিনিটের মাথায় মাঠ ছাড়তে হয়েছিল রোনাল্ডোকে। পরে মাঠের বাইরে থেকে সতীর্থদের উৎসাহ দিয়েছিলেন তিনি। অতিরিক্ত সময়ে এদের গোলে ইউরোপ সেরা হয়েছিল পর্তুগাল।
এর পরে ২০১৯-এ প্রথম বার উয়েফা নেশনস লিগ জেতে পর্তুগাল। ২০২৫-এও সেই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। দু’টি সাফল্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রোনাল্ডোর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোলের তালিকায় রোনাল্ডোর পরেই রয়েছেন লিওনেল মেসি। যিনি আড়াই মাস আগেই অবসর ঘোষণা করেছেন। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের গোলসংখ্যা ১১৫। তৃতীয় স্থানে ইরানের আলি দাই (১০৮)। ভারতের সুনীল ছেত্রীও রয়েছেন এই তালিকার প্রথম সারিতে। তাঁর গোলসংখ্যা ৯৫।
আরও পড়ুন: ১৮ বছর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় দিয়ে শুরু, শচীনের রেকর্ড ভেঙে জন্মদিন পালন বিরাটের
আন্তর্জাতিক ফুটবল শেষ, লক্ষ্য ১০০০ গোল
জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবল থেকে এখনই অবসর নিচ্ছেন না রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরের সঙ্গে এখনও চুক্তিবদ্ধ তিনি। ক্লাবের হয়ে খেলেই ১০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে চান পর্তুগিজ তারকা।
এখনও পর্যন্ত ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ৯৮৫। অর্থাৎ ১০০০ গোলের মাইলফলক থেকে মাত্র ১৫ গোল দূরে তিনি। স্পোর্টিং সিপি, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস এবং আল নাসেরের হয়ে বাকি গোলগুলি করেছেন রোনাল্ডো।
তবে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষটা খুব একটা মসৃণ হয়নি। পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে খেলার সময় নিয়ে মতবিরোধের জেরে সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পরে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তাঁকে ৩০ দিনের নির্বাসন এবং ২৫৫ ইউরো জরিমানা করে।
রোনাল্ডো ও মেসি— প্রায় দুই দশক ধরে ফুটবলবিশ্বকে যাঁরা নিজেদের দ্বৈরথে মাতিয়ে রেখেছিলেন, তাঁদের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের যুগও কার্যত শেষ হল। ক্লাব ফুটবলে তাঁদের লড়াই চলতে পারে, কিন্তু দেশের জার্সিতে আর দেখা যাবে না এই দুই মহাতারকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
একটা ৭ নম্বর জার্সি, ১৪৬টি গোল, ২৩৪টি ম্যাচ এবং ২৩ বছরের অসংখ্য স্মৃতি— পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে রোনাল্ডোর অধ্যায় শেষ হল এক আবেগঘন বিদায়ে।
দেখুন:




