নদিয়ার শান্তিপুরের বামাকালীর নৃত্যের আকর্ষণই আলাদা। পুজোর পাশাপাশি বামাকালীর নৃত্য আজ বাংলার সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। পুজোর পর প্রতিমা বিসর্জনের আগে সারা রাত ধরে চলে তাঁর নৃত্য। ঢাক-ঢোলের আওয়াজ, মশালের আলো আর কাঁধে চেপে বামাকালী নাচেন আর তাতে মজে থাকেন ভক্তরা।
শান্তিপুরের মানুষের কাছে বামাকালীর আরাধনা শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং আবেগ, বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক উৎসব। ১৯৬৯ সালে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই পুজোর শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা স্থানীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলার এক নিজস্ব সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।
১৯৬৯ সালে প্রথম বামাকালীর ঘটপুজো শুরু হয়েছিল। ১৯৭০ সাল থেকে প্রতিমা পুজোর প্রচলন হয়। আগে বামাকালী যমুনাকালী নামে পরিচিত ছিলেন। যমুনা চৌধুরী স্বপ্নাদেশে দেবীকে পুজো করার আদেশ পেয়েছিলেন। তারপরই শুরু হয় পুজো। পরবর্তী সময়ে নাম হয় বামাকালী।
আরও পড়ুন: Shyamakatha: হাজার হাতের কালী, এখানে দেবীকে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষে দেওয়া হয় তামিল ভোগ
প্রতি বছর প্রতিমা বিসর্জনের আগে বামাকালীর নৃত্য দেখতে বহু মানুষ ভিড় জমান। বামা শব্দের অর্থ ‘বামা’ বা বাঁ দিক। শিবের বুকে বাম পা রেখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বামা কালীকে। তাই দেবীর নাম বামাকালী। কালীর এই রূপ শক্তি, উগ্রতা ও অসীম মহিমার প্রতীক। বামাকালী নৃত্যের পরিবেশনাতেও সেই উগ্র ও শক্তিশালী রূপের প্রকাশ ঘটে।
বিসর্জনের দিন বামা কালীকে নৃত্যু করতে দেখা যায়। একটি বাঁশের মাচার উপর বসানো হয় দেবীর বিশাল প্রতিমা। কয়েকজন যুবক নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। এরপর ঢাক ও ঢোলের তালে তালে শুরু হয় তাঁদের নৃত্য। সারারাত ধরে চলে দেবীর নৃত্য।
নৃত্যের সময় বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবহার করা হয় না। মশালের আলো জ্বালিয়ে চলে দেবীর নৃত্য। আগুনের আলো, ঢাকের আওয়াজ এবং দুলতে থাকা দেবীর প্রতিমা মিলিয়ে তৈরি হয় এক রহস্যময় ও শিহরণ জাগানো দৃশ্য। দর্শকদের মনে হয়, যেন দেবী স্বয়ং তাঁর শক্তির প্রকাশ ঘটিয়ে নৃত্য করছেন।
আরও পড়ুন: Shyamakatha: কালী চণ্ড-মুণ্ডকে হত্যা করে হন ‘চামুণ্ডা’
তবে এ বছর বামাকালীর নৃত্যের জায়গার পরিবর্তন করা হয়েছে। চোরবাগান দুর্গাপুজোয় বিপর্যয়ের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবছর প্রশাসনের তরফে জায়গা নির্ধারিত করা হয়েছে। গত বছর পর্যন্ত শান্তিপুরের বড় বাজার ঘাট চৌরাস্তার মোড়ে বামাকালী নৃত্য পরিবেশন করতেন। এ বছর হবে বেজপাড়ার মাঠে। বড়বাজার চৌরাস্তা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে বেজপাড়া মাঠে নাচবেন বামাকালী।
দেখুন:




