ইরানের সঙ্গে যুদ্ধই (Iran War) যে রিপাবলিকানদের নির্বাচনে ভরাডুবি ঘটিয়েছে তা স্বীকার করে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তবে নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো নিয়ে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের (Donald Trump)। ট্রাম্প (Donald Trump) স্পষ্ট জানিয়েছেন, একই পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি আবারও সামরিক অভিযান চালাবেন।
বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প (Donald Trump) স্বীকার করেন, ইরান যুদ্ধের (Iran War) প্রভাব রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে পেট্রলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভি ভ্যান্সের সঙ্গে একমত বলেও জানান তিনি। ইরান যুদ্ধের প্রভাব নির্বাচনে পড়েছে কি না সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, কথাটা অনেকাংশেই সত্যি।‘
রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধের (Iran War) রাজনৈতিক মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট দু’জনেই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানকে গোপনে সাহায্যের অভিযোগ, ভারতীয় চার নাগরিকের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ট্রাম্পের (Donald Trump) মতে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের বিরুদ্দে সামরিক অভিযান দরকার ছিল। সেই সিদ্ধান্তের ফলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যে প্রভাব পড়েছে, তা এড়ানো সম্ভব ছিল না। অন্যদিকে ভ্যান্সের দাবি, রিপাবলিকানদের পরাজয়ের প্রধান কারণই ইরান যুদ্ধ। ২০২৪ সালে ট্রাম্প-ভ্যান্স জোটকে সমর্থন করলেও দুবছর পরে ডেমোক্র্য়াট প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন, তাঁদের অসন্তোষের কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন করে মনে করেন তিনি।
ভ্যান্সের দাবি, রিপাবলিকান ভোটারদের একাংশের দলবদল
বুধবার এক্সে একটি পোস্ট করেন ভ্যান্স। সেখানে তিনি দাবি করেন, রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ভোটারদের ভোট দিতে না আসাকে দায়ী করা ঠিক হবে না। তাঁর বক্তব্য, দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, রিপাবলিকানদের ভোটদানের হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেনি।
ভ্যান্স লেখেন, ‘আমাদের পরাজয়ের কারণ যুদ্ধ।‘ তাঁর দাবি, ২০২৪ সালে ট্রাম্প-ভ্যান্স জোটকে ভোট দেওয়া অনেকেই এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রশাসনের উপর আস্থা হারিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করেছেন।
অসন্তুষ্ট ভোটারদের উদ্বেগের চারটি প্রধান বিষয়ও তুলে ধরেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধের (Iran War) অবসান, মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার খরচ নিয়ন্ত্রণ, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ইজরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন—এই বিষয়গুলি ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভ্যান্সের বক্তব্য, নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ শুধু প্রচারের দুর্বলতা কিংবা ভোটারদের উপস্থিতির অভাব বলে এড়িয়ে গেলে চলবে না। ভোটারদের এই অসন্তোষকে গুরুত্ব দিয়ে দলের ভবিষ্যৎ কৌশল তৈরি করতে হবে।
আরও পড়ুন: আমেরিকায় প্রথম মুসলিম সেনেটর, আবদুল এল-সায়েদের জয়ে উচ্ছ্বাস কর্ণাটকের দুই শহরে
সামরিক অভিযানকে প্রয়োজনীয় বলেই দাবি ট্রাম্পের
অন্য দিকে, হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের বিরুদ্ধে (Iran War) সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তকে ফের সমর্থন করেছেন ট্রাম্প।তাঁর দাবি, অভিযান শুরুর সময়ই তেলের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে সামরিক পদক্ষেপ জরুরি ছিল।
ট্রাম্প (Donald Trump) আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক ক্ষমতা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ফের তেল পরিবহণ শুরু হওয়াকেও অর্থনৈতিক অস্থিরতা কমার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
ভোটারদের অসন্তোষের নেপথ্যে কোন কোন বিষয় রয়েছে?
এবিসি নিউজের করা একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ভোট দেওয়ার সময় বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখেছেন ভোটাররা। তার মধ্যে ইরান যুদ্ধ (Iran War) অন্যতম। তবে একমাত্র কারণ নয়। যুদ্ধের পাশাপাশি জ্বালানির দাম, স্বাস্থ্য পরিষেবার খবর এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মূল্যবৃদ্ধিও যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে।
অর্থাৎ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য শুধু ইরান যুদ্ধকেই (Iran War) দায়ী করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ভ্যান্সের দাবি, যুদ্ধই পরাজয়ের প্রধান কারণ। কিন্তু ভোটারদের অসন্তোষের পিছনে একাধিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয় কাজ করেছে।
প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট-দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয় ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে চলেছে। আগামী জানুয়ারি থেকে নুতন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে প্রশাসনের উপর ডেমোক্র্যাটদের নজরদারি আরও বাড়বে। তবে নির্বাচনের ফলাফলের পরও ইরান নিয়ে তাঁর মতামতে কোনও পরিবর্তন আসেনি বলেই জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)।
দেখুন:




