• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 3 November, 2026

বাম থেকে তৃণমূল, এবার বিজেপি! চুঁচুড়ায় একই পার্টি অফিসের তিনবার হাতবদল

একই অফিস, তিনবার হাতবদল! বাম, তৃণমূলের পর এবার সেই অফিসের দখল নিল বিজেপি। হুগলির চুঁচুড়ার খাদিনা মোড়ে সিপিএমের শ্রমিক

বাম থেকে তৃণমূল, এবার বিজেপি! চুঁচুড়ায় একই পার্টি অফিসের তিনবার হাতবদল

একই অফিস, তিনবার হাতবদল! বাম, তৃণমূলের পর এবার সেই অফিসের দখল নিল বিজেপি। হুগলির চুঁচুড়ার খাদিনা মোড়ে সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটুর কার্যালয় ঘিরে রাজনৈতিক দখলদারির এই ছবি সামনে এসেছে। একসময় যে অফিসে উড়ত লাল পতাকা, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর সেখানে জায়গা করে নিয়েছিল জোড়াফুল। পরে ফের সিটুর হাতে ফিরলেও এবার সেই কার্যালয়ে উড়ছে গেরুয়া পতাকা।

চুঁচুড়ায় তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন তৎকালীন বিধায়ক অসিত মজুমদার ওই কার্যালয়টি নিজের অফিস হিসেবে ব্যবহার করতেন। রাজ্যে পালাবদলের পর অবশ্য কার্যালয়টি সিটুকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ফের সেখানে ওড়ে লাল পতাকা। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই কার্যত বন্ধ অবস্থায় পড়েছিল অফিসটি। মাস কয়েক আগে আচমকাই সেটি দখল করেন বিজেপি কর্মীরা।

সোমবার আলো দিয়ে সাজিয়ে নতুন করে কার্যালয়টির উদ্বোধন করেন চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ। তাঁর বক্তব্য, “আগে বামেরা দিত, তার পর তৃণমূল। এবার বিজেপি এই অফিস থেকে মানুষকে পরিষেবা দেবে।”

তবে বিজেপি বিধায়কের এই দাবি ঘিরেই প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিকরা। পালাবদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক পার্টি অফিস দখলের অভিযোগ উঠেছিল। তখন সুবীর নাগ জানিয়েছিলেন, বিজেপি দখলের রাজনীতি করবে না। এমনকী, চুঁচুড়ার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে দখল হয়ে যাওয়া তৃণমূলের একটি কার্যালয় নিজের উপস্থিতিতে ফিরিয়েও দিয়েছিলেন তিনি। তাহলে খাদিনা মোড়ের অফিসের ক্ষেত্রে অবস্থান বদল কেন?

জবাবে সুবীর নাগের যুক্তি, “তৃণমূল ফিরিয়েছিল। সেই তৃণমূলের আর কোনও অস্তিত্ব নেই। আর বামেদের কোনও লোক নেই। তারা রাজ্যে যেদিন পঞ্চাশটা আসন পাবে, পার্টি অফিস ফিরিয়ে দেব। এখন বিজেপি এই অফিস থেকে পরিষেবা দেবে।”

বিজেপি বিধায়কের এই বক্তব্যের পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন সিটু নেতা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “যেদিন বামেরা পঞ্চাশটা আসন পাবে, সেদিন বিজেপি থাকবে না। ওরাও তৃণমূলের মতো দখলের রাজনীতিই করছে। শুধু খাদিনা মোড় নয়, চুঁচুড়ার একাধিক অফিস দখল করেছে। কথায় আর কাজে মিল নেই বিজেপির। ওরা বড় দল, টাকা আছে। কিন্তু কিছু করার মুরোদ নেই। তাই অন্যের অফিস দখল করতে হয়।”

একই কার্যালয়কে ঘিরে তিন রাজনৈতিক দলের এই টানাপড়েনে নতুন করে সামনে এল চুঁচুড়ার রাজনৈতিক সংঘাত। দখলের রাজনীতি না কি মানুষের পরিষেবা—খাদিনা মোড়ের কার্যালয়কে ঘিরে সেই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে।