• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 2 November, 2026

আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়ায় রাশ টানতে উদ্যোগ কেন্দ্রের, স্বচ্ছতা আনতে নয়া বিধি

কোনও জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এবং জনস্বার্থে হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করলে কেন্দ্র লিখিত নির্দেশ জারি করতে পারবে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী সেই নির্দেশ দিতে হবে। সেই নির্দেশ নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই কার্যকর থাকবে।

আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়ায় রাশ টানতে উদ্যোগ কেন্দ্রের, স্বচ্ছতা আনতে নয়া বিধি

File Photo

কোনও বিশেষ জরুরি পরিস্থিতিতে ফ্লাইটের টিকিটের ভাড়া নিয়ন্ত্রণে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে কেন্দ্রীয় সরকার। জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে হলে বিমান সংস্থাগুলিকে ভাড়া সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রকে। ক্রমবর্ধমান বিমান ভাড়া এবং অপরিশোধিত তেল ও এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম বৃদ্ধির মধ্যে এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘ভারতীয় বায়ুযান নিয়ম, ২০২৬’ আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে। নতুন নিয়মের ১৯২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, বিমান সংস্থাগুলি পরিচালন খরচ-সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর নজর রেখে ভাড়া নির্ধারণ করবে। এর পাশাপাশি সেই ভাড়ার সম্পূর্ণ তালিকা ও তথ্য নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় মেনে অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA)-র কাছে জমা দিতে হবে।

কোনও জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এবং জনস্বার্থে হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করলে কেন্দ্র লিখিত নির্দেশ জারি করতে পারবে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী সেই নির্দেশ দিতে হবে। সেই নির্দেশ নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই কার্যকর থাকবে।

নতুন নিয়মে বিমান সংস্থাগুলিকে নিজেদের ওয়েবসাইট ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টিকিটের ভাড়া প্রকাশ করতে হবে। শুধু তাই নয়, বেস ফেয়ার, কর, অতিরিক্ত ফি, বাতিলের চার্জ, টাকা ফেরতের শর্ত ও অন্যান্য খরচের পৃথক হিসাবও যাত্রীদের জানাতে হবে। বিমান সংস্থাগুলির নির্ধারিত ভাড়ার উপর নজরদারি চালাবে ডিজিসিএ।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে দূষণবিধি নিয়ে বিতর্কে ইন্ডিয়া জোট, মিছিলে রাহুল-মমতাদের গাড়ি ঘিরে উঠল প্রশ্ন

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে ভারতে বিমান ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা হয়। এর ফলে বাজারের চাহিদা ও পরিচালন ব্যয়ের ভিত্তিতে ভাড়া ঠিক করার স্বাধীনতা পায় বিমান সংস্থাগুলি। এর আগে ১৯৩৭ সালের এয়ারক্র্যাফ্ট রুলস-এর ১৩৫(৪) নম্বর ধারায় অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলে তাতে ডিজিসিএ-র হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল। নতুন ১৯২ নম্বর ধারায় সেই নির্দিষ্ট কারণগুলির উল্লেখ নেই। পরিবর্তে জরুরি পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে ভাড়া সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা সরাসরি কেন্দ্রের হাতে রাখা হয়েছে।