• facebook
  • twitter
Tuesday, 7 April, 2026

ইরান সংঘাতের জেরে দীর্ঘ আকাশযাত্রা, পাইলটদের ডিউটির সময়ে সাময়িক ছাড় দিল ডিজিসিএ

নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও জোরদার করেছে ডিজিসিএ। সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ উড়ানগুলির উপর বিশেষ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক উড়ানে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাগুলির সমস্যার কথা মাথায় রেখে পাইলটদের ডিউটি সময়ের নিয়মে সাময়িক ছাড় দিল বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর।

প্রসঙ্গত, বিমান পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী উড়ান সময় বলতে বোঝায়, বিমান রানওয়ে থেকে উড়ানের উদ্দেশ্যে চলা শুরু করার মুহূর্ত থেকে গন্তব্যে পৌঁছে সম্পূর্ণ থামা পর্যন্ত মোট সময়।

Advertisement

কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে চলা সংঘাতের কারণে পশ্চিমমুখী উড়ানগুলির সময় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ফলে নির্ধারিত ডিউটি সময়ের সীমা মেনে চলা বিমান সংস্থাগুলির পক্ষে কঠিন হয়ে উঠছিল। এই কারণেই ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনের নিয়মে অস্থায়ী শিথিলতা আনা হয়েছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, পাইলটদের অতিরিক্ত ক্লান্তি যাতে বিমান নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি না তৈরি করে, সেই লক্ষ্যেই গত বছর নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী পাইলটদের টানা ৪৮ ঘণ্টার বিশ্রাম বাধ্যতামূলক করা হয়, যা আগের ৩৬ ঘণ্টা থেকে বাড়ানো হয়েছিল।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘ পথ ঘুরে উড়তে হচ্ছিল। ফলে উড়ানের সময় বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। সেই কারণে ডিজিসিএ দুই পাইলটের দীর্ঘ দূরত্বের উড়ানের ক্ষেত্রে ফ্লাইট সময় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট বাড়িয়ে ১১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এবং ডিউটি সময় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট বাড়িয়ে ১১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত করার অনুমতি দিয়েছে।

এদিকে, নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও জোরদার করেছে ডিজিসিএ। সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ উড়ানগুলির উপর বিশেষ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় অন্তর সংস্থাগুলির পরিদর্শনও চালানো হচ্ছে। বিমান সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে ক্রুদের উপস্থিতি, ডিউটি তালিকার সঠিকতা, অতিরিক্ত ব্যবস্থার প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রী পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে বিমান পরিষেবা মহল।

Advertisement