ঘূর্ণিঝড় অর্ণব দুর্বল হয়ে এগিয়ে গিয়েছে ছত্তীসগঢ়ের দিকে। কিন্তু তার রেশ এখনও কাটেনি ওড়িশায়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে লাগাতার বৃষ্টিতে রাজ্যের উপকূলীয় ও পার্বত্য এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত। বিশেষ করে গঞ্জাম ও গজপতি জেলার একের পর এক গ্রাম জলমগ্ন। জলবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। তাঁদের উদ্ধারে এ বার হেলিকপ্টার নামানোর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার গঞ্জাম ও গজপতি জেলার বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।
মৌসম ভবনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গঞ্জাম জেলার পত্রপুর ব্লকে ৫৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সুরাডা, সনাখেমুণ্ডী এবং রঙ্গেলুন্ডা ব্লকেও বৃষ্টির পরিমাণ ২০০ মিলিমিটার ছাড়িয়েছে। বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির জেরে নদীর জলস্তর বেড়েছে। একাধিক এলাকায় নদীর জল ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় উদ্ধারকাজে গতি আনার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
রাজ্যের মুখ্যসচিব অনু গর্গ জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। উপকূলরক্ষী বাহিনীর হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছে। তবে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশ মেঘে ঢাকা থাকায় এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি বুঝেই হেলিকপ্টার নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে, জলবন্দি মানুষকে উদ্ধারে নৌকা নিয়ে নেমেছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, গঞ্জাম জেলার ধরকোট, সনাখেমুণ্ডী, সুরাডা এবং পত্রপুর ব্লকের অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত। ওই এলাকাগুলিতে দু’হাজারেরও বেশি মানুষ জলবন্দি হয়ে রয়েছেন। ধরকোটের চারটি জায়গা থেকে হেলিকপ্টারের সাহায্যে ১২০ জনকে উদ্ধারের প্রস্তুতি চলছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দলও পাঠানো হয়েছে গঞ্জাম জেলায়। প্রশাসনের দাবি, ওই জেলায় ইতিমধ্যেই ১১ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বিপদ বাড়াচ্ছে ফুলেফেঁপে ওঠা নদীগুলিও। গঞ্জাম জেলার ঋষিকুল্লা এবং গজপতি জেলার বামসাধারা নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। কোথাও কোথাও নদীর জল ঢুকে পড়েছে বসতিতে। উপকূলীয় এলাকার নিচু অঞ্চলগুলিও জলমগ্ন। সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছে প্রশাসন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে রেল ও সড়ক যোগাযোগেও। লাগাতার বৃষ্টিতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার মধ্যে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। চেন্নাই-হাওড়া রেলপথে ইচ্ছাপুরম ও ঝড়ুপুরী স্টেশনের মাঝের রেললাইন জলের নীচে চলে গিয়েছে। অন্যদিকে, গঞ্জাম ও গজপতি জেলার সীমানায় তপ্তপানি ঘাটিতে ৩২৬ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নেমেছে। ওড়িশার পাঁচটি জেলার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ধস নামায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব দুর্বল হয়ে ছত্তীসগঢ়ের দিকে এগিয়ে গেলেও ওড়িশায় বৃষ্টির দাপট এখনই কমার সম্ভাবনা নেই। সুন্দরগড়, ঝরসুগুড়া ও বরগড় জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, আরও আটটি জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে রাজ্য প্রশাসন।




