• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 30 October, 2026

রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি, বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর

সরকারি চাকরিতে আগ্রহী পরিবারগুলিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ জেলা

রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি, বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Nabanna Photo-ANI

রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন এমন পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে বড় উদ্যোগ নিতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। গত ২৫ বছরে নির্বাচন এবং ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একজন সদস্য করে বিশেষ চাকরির ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তৃণমূল কংগ্রেস জমানার ক্ষতিগ্রস্তরাই নন, বরং বামফ্রন্ট আমলেও রাজনৈতিক হিংসার শিকার হওয়া পরিবারগুলিকে এই সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে।

নবান্ন সূত্রে খবর, এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই আইন দপ্তরের অনুমোদন মিলেছে। এবার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করার জন্য জেলা প্রশাসনগুলিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং গত ২৫ বছরের পঞ্চায়েত নির্বাচন ও ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহতদের পরিবারগুলিকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বিষয়টি ইতিমধ্যেই মন্ত্রিসভার আলোচনায় উঠে এসেছে। দ্রুতই এই বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। আর যোগ্য পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হবে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্য থেকে একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। তার জন্য খুব শীঘ্রই প্রশাসনিক স্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি বা বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে চাকরির আবেদন জমা দিতে হবে। সেখানে পরিবারের সদস্যকে সমস্ত তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হবে। ওই নথি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমা করা হবে নবান্নে। এই বিষয়ে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘রাজ্যের মানুষ জানেন, গত ২৫ বছরে কীভাবে ভোটের নামে বাংলায় অত্যাচার হয়েছে। ভোট পরবর্তী হিংসায় খুন হয়ে যাওয়া যেন নিউ নর্মাল হয়ে গিয়েছে। রক্তপাতহীন ভোট এবার হয়েছে। অতীতে যাঁদের রক্ত ঝরেছে, তাঁদের কাছে সরকারের এই ঘোষণা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

সরকারি চাকরিতে আগ্রহী পরিবারগুলিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। তারপর জমা পড়া নথি খতিয়ে দেখবে প্রশাসন। যাচাই প্রক্রিয়া শেষে যোগ্য পরিবারগুলির একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার বলে সূত্রের খবর। এই বিষয়ে জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল বলেন, ‘এর আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক হিংসার কারণে নিহতের পরিবারগুলির একজনকে চাকরি দিয়েছেন। আমার কেন্দ্রের একজন, যিনি খুন হয়েছিলেন হরিয়ানায়, গো-মাংস ভক্ষণের সন্দেহে খুন হয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রীকেও চাকরি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই সরকার আসার পর তাঁর চাকরি চলে যায়। কী উনি স্থায়ী চাকরি দেবেন বলছেন? এটা কীভাবে হয়? পরীক্ষা দিয়ে তো স্থায়ী চাকরি পাওয়া যায়।’