• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 29 October, 2026

রঞ্জি ট্রফিতে জয়ের হ্যাটট্রিকের পরও উচ্ছ্বাসে ভাসতে রাজি নন বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা, কেরলে দাপুটে জয়ের পর কী বললেন?

সেই কারণেই কি লক্ষ্মী ইডেনের উইকেট নিয়ে চিন্তিত? বলেন, ‘ইডেনের উইকেট একটু অন্যরকম হয়, সে তো জানেনই। দেখা যাক ওখানে

রঞ্জি ট্রফিতে জয়ের হ্যাটট্রিকের পরও উচ্ছ্বাসে ভাসতে রাজি নন বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা, কেরলে দাপুটে জয়ের পর কী বললেন?

Lakshmiratan Shukla Photo-SNS

টানা তিনটি ম্যাচে তাঁর দল জিতে রঞ্জি ট্রফির এলিট গ্রুপ সি-তে শীর্ষে রয়েছে। তবে জয়ের হ্যাটট্রিক করেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে রাজি নন বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল। তাঁর বক্তব্য, ‘আরও অনেক দূর যেতে হবে আমাদের। তাই এখনই বেশি উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই’।

বৃহস্পতিবার রঞ্জি ট্রফিতে কেরলের বিরুদ্ধে আগাগোড়া দাপট দেখিয়ে ২৮৭ রানে জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলা। এই জয়ের দুই নায়ক শাহবাজ আহমেদ এবং প্রদীপ্ত প্রামাণিক। শাহবাজের দুরন্ত শতরানের পরে বল হাতে প্রতিপক্ষের ব্যাটিংকে তছনছ করে দেন প্রদীপ্ত। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নেন তিনি। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই প্রতিপক্ষের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে ছিল বাংলা।

বাংলার ইনিংসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান শাহবাজের। ২০৩ বল খেলে ১২১ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন তিনি। ধৈর্য এবং দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের মিশেলে দলের রানকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেন এই অলরাউন্ডার। সেই ভিতের উপর দাঁড়িয়েই দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন প্রদীপ্ত ও মহম্মদ শামি। ভারতীয় পেসার দুই ইনিংস মিলিয়ে পাঁচ উইকেট নেন। মূলত স্পিন সহায়ক উইকেটে শামির এই বোলিং উল্লেখযোগ্য।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিরুবনন্তপুরম থেকে ফোনে কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা বলেন, ‘টানা তিনটে ম্যাচ জিতে এখন আমরা ভাল জায়গায় আছি ঠিকই। কিন্তু এই নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার মতো কিছু নেই। ছেলেরা ভালো খেলছে, এটা ইতিবাচক ব্যাপার। এর পরে আরো ম্যাচ আছে। এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে আমাদের’।

তবে টপ অর্ডার ব্যাটাররা এখনও বেশিরভাগই ঠিকমতো রান পাননি, এই বিষয়টা চিন্তায় রাখতে পারে বাংলা শিবিরকে। এই নিয়ে লক্ষ্মীরতন বলেন, ‘এই ম্যাচে মূলত স্পিন-সহায়ক উইকেট ছিল বলেই ব্যাটারদের ব্যাটিং করতে বেশ অসুবিধা হয়েছে। ওদের ব্যাটাররাও মোটেই ভালো ব্যাট করতে পারেনি। পরের ম্যাচগুলোতে আমাদের ব্যাটাররা আশা করি উন্নতি করবে’।

দিল্লি, সার্ভিসেসের পর কেরলকে হারিয়ে বাংলা আপাতত তিন ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে। তবে এখনও গ্রুপে তাদের চারটি ম্যাচ বাকি। এর পর নভেম্বরে মহারাষ্ট্র, কর্নাটকের বিরুদ্ধে ম্যাচ বাংলার। জানুয়ারিতে গুজরাত, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে। আগামী ২ নভেম্বর থেকে ইডেনে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচে নামবে তারা।

আপাতত বাংলার কোচের চিন্তা ইডেনে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে, যা হবে সোমবার থেকে। ইডেনের উইকেট নিয়ে বাংলার ক্রিকেট দল বরাবরই একটু চিন্তায় থাকে। কারণ, বহুবারই অভিযোগ উঠেছে এখানকার উইকেটে হোম অ্যাডভান্টেজ ঠিকমতো পাওয়া যায় না। ইডেন উইকেটের কিউরেটরের সঙ্গে ভারতীয় দল এবং কেকেআর ম্যানেজমেন্টের মধ্যেও একাধিকবার দ্বিমত দেখা দিয়েছে।

সেই কারণেই কি লক্ষ্মী ইডেনের উইকেট নিয়ে চিন্তিত? বলেন, ‘ইডেনের উইকেট একটু অন্যরকম হয়, সে তো জানেনই। দেখা যাক ওখানে কী রকম উইকেট পাব আমরা। সেই বুঝে দল ও পরিকল্পনা করতে হবে’। মহারাষ্ট্র তাদের প্রথম ম্যাচে সার্ভিসেসকে ১২৭ রানে হারায়। তবে ঝাড়খণ্ড ও গুজরাতের বিরুদ্ধে তারা ড্র করে। তিন ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তারা কলকাতায় আসছে। গ্রুপের দ্বিতীয় সেরাদের বিরুদ্ধে বাংলার পরীক্ষা খুব একটা সহজ হবে বলে মনে হয় না। এই ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু হবে শনিবার থেকে।