• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 29 October, 2026

‘আমি কীভাবে যুক্ত?’ আদালতে প্রশ্ন ইন্দ্রনীলের, পাল্টা কী দাবি পুলিশের?

অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবীর পাল্টা যুক্তি, ঘটনার সময় ইন্দ্রনীল ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা ছিল। ফলে আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা জরুরি।

‘আমি কীভাবে যুক্ত?’ আদালতে প্রশ্ন ইন্দ্রনীলের, পাল্টা কী দাবি পুলিশের?

Photo: Statesman

দুর্গাপুজোর অনুদান ও ইউনেস্কোর নাম ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইন্দ্রনীল সেন। তাঁকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল আদালত। পুলিশের দাবি, ২০২১-২২ সালে মাস আর্ট নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে আসা টাকা ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। তদন্তের স্বার্থে ১২ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ইন্দ্রনীল।

পুলিশের বক্তব্য, ঘটনার সময় ইন্দ্রনীল মন্ত্রী ছিলেন। পুজো সংক্রান্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। সেই সূত্র ধরেই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর যোগ খতিয়ে দেখতে চায় পুলিশ। সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং একাধিক সংস্থার মাধ্যমে লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। জামিন পেলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে বলে আদালতে সওয়াল করেন সরকারি আইনজীবী।

তবে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে ইন্দ্রনীলের দাবি, তিনি কোনও আর্থিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর কথায়, ‘আমি এই সংস্থার সদস্য নই, প্রেসিডেন্ট নই, ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্টও নই। আমার বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ তাঁর আরও দাবি, মাস আর্ট বা থার্ড আই যে সংস্থাগুলির নাম অভিযোগে রয়েছে, সেগুলির সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাঁর স্ত্রী বা অন্য ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট পদে থাকলেও তার দায় তাঁর উপর চাপানো যায় না বলেই দাবি ইন্দ্রনীলের।

ইডির তদন্তেও তিনি হাজিরা দিয়েছেন বলে আদালতে জানান ইন্দ্রনীল। তাঁর বক্তব্য, ইডির মামলায় বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর তালিকায় তাঁর ফোনের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু তাতে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ মেলে না। হাইকোর্টে শুনানির সময়ও তদন্তকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনেননি বলে দাবি করেন তিনি। টিকিট বিক্রির জন্য পৃথক এজেন্সি ছিল বলেও সওয়াল করেন তাঁর পক্ষের আইনজীবী।

ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার নিয়েও দু’পক্ষের বক্তব্যে বিরোধ সামনে এসেছে। ইন্দ্রনীলের দাবি, ২৪টি পুজো বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সরাসরি ভূমিকা ছিল না। ২০২৫ সালে চুক্তি হলেও ২০২২ সালেই টাকা তোলার অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। চুক্তিতে ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহার না করার শর্ত ছিল বলেও দাবি তাঁর। তাঁর বক্তব্য, যাঁর নামে অভিযোগে রয়েছে, তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পরেই তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছিল। এই ঘটনাক্রম থেকেই তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হয় না।

অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবীর পাল্টা যুক্তি, ঘটনার সময় ইন্দ্রনীল ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা ছিল। ফলে আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা জরুরি।

আরও পড়ুন: এক আবাসনে মদের দোকানে আপত্তি, অন্যত্র ছাড় কেন? বৈষম্যের অভিযোগে পুরসভার সিদ্ধান্ত খারিজ হাইকোর্টের

সুপ্রিম কোর্টে সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানি নিয়ে ইন্দ্রনীল জানান, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত সরে দাঁড়ানোর পর মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে বেঞ্চ নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে এত দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একদিকে পুলিশের দাবি, টেন্ডার ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্ত এগোচ্ছে। অন্যদিকে, ইন্দ্রনীলের বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও প্রমাণ নেই।