• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 29 October, 2026

ভোটের পথে আপাতত বাধা নেই, ডিলিমিটেশন মামলায় স্থগিতাদেশ নয় হাইকোর্টের

তবে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, বুধবার চূড়ান্ত শুনানি হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে তাঁদের বক্তব্য শুনে এই পর্যায়ে নির্দেশে কোনও পরিবর্তন করা হবে না। পরবর্তী শুনানিতে তাঁদের বক্তব্য শোনা হবে এবং তা আদালতের নথিতে থাকবে।

ভোটের পথে আপাতত বাধা নেই, ডিলিমিটেশন মামলায় স্থগিতাদেশ নয় হাইকোর্টের

Photo: Statesman

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন মামলায় আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে পুরসভার ভোটের প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে কোনও আইনি বাধা তৈরি হল না। তবে মামলা খারিজ করেনি আদালত।

আগামী ছ’সপ্তাহ পরে ফের মামলার শুনানি হবে। তার আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য ও মামলাকারীদের বক্তব্য হলফনামার মাধ্যমে জানতে চেয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের নির্দেশ, মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে রাজ্যকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। তার পরের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে পারবেন মামলাকারীরা।

ছ’সপ্তাহ পরে ফের মামলাটির শুনানি হবে। আপাতত বিজ্ঞপ্তির উপর কোনও স্থগিতাদেশ না থাকায় পুরভোটের প্রস্তুতি নির্ধারিত সূচি মেনেই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে প্রশাসন। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মামলাকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, গোটা প্রক্রিয়ায় আইনি বিধি মানা হয়নি।

পুরসভার প্রশাসকের ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত পদক্ষেপ করার আইনি অধিকার রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরেই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য প্রশ্ন তুলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রক্রিয়ার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে কেন আদালতের দ্বারস্থ হলেন মামলাকারীরা? এর পাশাপাশি, পুরসভার কমিশনার যে পদ্ধতিতে পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, তার পিছনে নির্দিষ্ট কোনও বিধি রয়েছে কি না, তাও জানতে চান তিনি।

এ দিন কালীঘাটের তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএমের পক্ষ থেকেও মামলায় বক্তব্য পেশের চেষ্টা করা হয়। তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য এবং সিপিএমের পক্ষে আইনজীবী কল্লোল বসু জানান, তাঁদের বক্তব্যও আদালতের শোনা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ে মামলার নথি হাতে না পাওয়ায় বুধবারের শুনানিতে তাঁরা উপস্থিত থাকতে পারেননি। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিজ্ঞপ্তিকে অবৈধ ও বেআইনি বলেও দাবি করেছে সিপিএম।

তবে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, বুধবার চূড়ান্ত শুনানি হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে তাঁদের বক্তব্য শুনে এই পর্যায়ে নির্দেশে কোনও পরিবর্তন করা হবে না। পরবর্তী শুনানিতে তাঁদের বক্তব্য শোনা হবে এবং তা আদালতের নথিতে থাকবে।

আরও পড়ুন: এক আবাসনে মদের দোকানে আপত্তি, অন্যত্র ছাড় কেন? বৈষম্যের অভিযোগে পুরসভার সিদ্ধান্ত খারিজ হাইকোর্টের

উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার ২০৯টি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য বুথের সংখ্যা ৪,৭১১। ভোট পরিচালনার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২২,৬০০ ভোটকর্মী। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের। এই পরিস্থিতিতে ডিলিমিটেশন মামলায় আপাতত স্থগিতাদেশ না মেলায় পুরভোটের প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার পথ খোলা রইল। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।