• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 29 October, 2026

কালীপুজোয় বাজি ব্যবহারে কড়াকড়ি পুলিশের, নিয়ম বাতলে কন্ট্রোল রুম গড়ছে নবান্ন

তাছাড়া কালীপুজোর আগে কন্ট্রোল রুম খোলার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রসচিব। বাজি নিয়ে কারও কোনও অভিযোগ থাকলে কন্ট্রোল রুমে

কালীপুজোয় বাজি ব্যবহারে কড়াকড়ি পুলিশের, নিয়ম বাতলে কন্ট্রোল রুম গড়ছে নবান্ন

Nabanna Photo-SNS

আগামী ৮ নভেম্বর কালীপুজো। প্যান্ডেল বাঁধা শুরু হয়ে গিয়েছে। এলাকার অলিগলি থেকে দোকানে বাজি বিক্রিও হচ্ছে। এবার অবৈধ বাজি বিক্রিতে রাশ টানতে মাঠে নামল কলকাতা পুলিশ, পুরসভা এবং রাজ্য পুলিশ। বৃহস্পতিবার এই নিয়ে নবান্নে বৈঠক করলেন স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। বাজি বিক্রি থেকে পোড়ানো পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে কড়া নিয়মের কথা ঘোষণা করা হল। আর তা না মানলে উপযুক্ত ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব। এমনকী কড়াকড়ির কথা জানালেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তাও।

কালীপুজোর প্রাক্কালে যত্রতত্র বিক্রি হয় ফানুস। আর তা বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে রাস্তায় দাঁড়িয়েই ফানুস ওড়ানো হয়। এবার ফানুস বা এয়ার বেলুন ব্যবহারে কড়াকড়ির কথা জানিয়ে দিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা। তিনি জানান, ফানুস ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া ফানুস বা এয়ার বেলুন ওড়ানোর ঘটনায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে এসব ব্যবহারে নিয়ম মানতে হবে। নবান্নে এদিন কালীপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল, অবৈধ বাজি বিক্রি আটকানো, শব্দবাজি রোখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর তাতেই বেশ কয়েকটি বিষয় কড়া হাতে সামলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

নবান্ন থেকে স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ গ্রিন বাজি ব্যবহারে জোর দেন। তিনি জানিয়ে দেন, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, বৃদ্ধাশ্রমের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও শব্দবাজি ফাটানো যাবে না। সেখানে নীরবতা বজায় রাখতে হবে। কালীপুজোর আগে বাজি বাজারের উপর নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি থাকবে। স্বরাষ্ট্রসচিব সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘নিজের আনন্দ যেন অন্যের দুঃখের কারণ না হয়। প্রশাসনের কড়াকড়ির থেকে মানুষের সচেতনতা বেশি জরুরি। তাই বাজি ব্যবহার নিয়ে সকলের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সব পুলিশ আটকাবে, পদক্ষেপ করবে তারপর হবে, এই মানসিকতা পাল্টানোর সময় এসেছে। মানুষকে মানবিক হতে হবে এবং নিজে থেকে সচেতন হতে হবে। তাহলেই কালীপুজোয় যেকোনও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।’

তাছাড়া কালীপুজোর আগে কন্ট্রোল রুম খোলার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রসচিব। বাজি নিয়ে কারও কোনও অভিযোগ থাকলে কন্ট্রোল রুমে জানাতে পারবেন। নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলবে। উৎসবের দিনগুলিতেও সচেতন থাকবে প্রশাসন। চলবে পেট্রোলিং। প্রত্যেক বছরের মতো এই বছরও বাজি বাজারে নজর রাখবে কলকাতা পুরসভা। একাধিক উপায়ে অবৈধ বাজি চিহ্নিত করা হবে, ধরা পড়লে সব বাজেয়াপ্ত করা হবে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া বাজি তৈরি বা বিক্রি করা যাবে না। নির্দিষ্ট সময়ে বাজি পোড়াতে হবে। আর রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানান, নবান্নে একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হচ্ছে। সেখানে যে কোনও সময় অভিযোগ জমা করা যাবে। অভিযোগ মিললেই পদক্ষেপ করবে পুলিশ। হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হবে ২-৩ দিনের মধ্যে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।