চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে জয় পেয়েছে পদ্মশিবির। হাত শিবির আদৌ খাতা খুলতে পারবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। শেষ পর্যন্ত সংঘ ঘাঁটি নাগপুরে জয় ছিনিয়ে নিল কংগ্রেস (Congress)। আরএসএস (RSS) সদর দপ্তর এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের নিজের শহর নাগপুরে কংগ্রেসের (Congress) এই জয় রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই জয় পেতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র (Narendra Modi) মোদীর কটাক্ষের পাল্টা জবাব দিল কংগ্রেস (Congress)। তাদের প্রশ্ন, ‘বলুন তো, নাগপুরে কে জিতল?’
উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার এবং কর্ণাটকের মোট ২৮টি বিধান পরিষদ আসনে গণনা শুরু হয়েছিল। বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে অধিকাংশ আসনের ফল প্রকাশিত হলেও কংগ্রেসের ঝুলিতে তখনও কোনও জয় আসেনি। যে আসনগুলিতে গণনা চলছিল, এমনকী সেখানও কংগ্রেস এগিয়ে ছিল না। এই পরিস্থিতিতে হাতশিবিরকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, চারটি বড় রাজ্যের ২৮টি আসনে বিধান পরিষদ নির্বাচন হয়েছে। ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণের পর কংগ্রেস কতগুলি আসনে জিতেছে, তা জানতে চান তিনি। পোস্টের সঙ্গে আতশকাচ হাতে একটি ইমোজিও জুড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরেই বিজেপির একাধিক নেতা একই সুরে কংগ্রেসকে নিশানা করেন।
আরও পড়ুন: চন্দ্রনাথ খুনে দু’কোটি টাকার সুপারি, হাসিরানি রথকে বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস শুভেন্দুর
তবে বুধবার রাত থেকে নাগপুরের ছবি বদলাতে শুরু করে। বিজেপি (BJP) প্রার্থী সুধাকর কোহালেকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যান কংগ্রেসের (Congress) অভিজিৎ ওয়াংজারি। বিধান পরিষদের বিদায়ী সদস্য অভিজিতের সঙ্গে সুধাকরের লড়াই চলে ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার ভোরে ৩ হাজার ২৭১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন কংগ্রেস প্রার্থী (Congress)।
নাগপুরের এই জয় কংগ্রেসের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সালেও এই আসন থেকে জিতেছিলেন অভিজিৎ। তবে নাগপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আরএসএসের সদর দপ্তর ছাড়া এই শহর মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের নিজের শহর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করিও ১৯৯০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা ২৪ বছৎ এই আসন থেকে মহারাষ্ট্রের বিধান পরিষদের সদস্য ছিলেন। এবার নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী সুধাকরের সমর্থনে প্রচার করেছিলেন ফড়নবীস ও গড়করি। তার পরেও নাগপুরে বিজেপির পরাজয় রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
মহারাষ্ট্রের অন্য আসনগুলিতে শাসক জোটের ফল মিশ্র। রাজ্যের পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটিতে পরাজিত হয়ে বিজেপি-একনাথ শিন্ডের জোট শিবির। বিজেপি ও শিন্ডের দল একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে একটি আসন। বাকি দুটি আসনে জয়ী হয়েছে শরদ পাওয়ারের এনসিপি।
আরও পড়ুন: নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে গ্রেপ্তার মূল ইজারাদার সবা জফর
উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতেও ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি (BJP)। প্রধানমন্ত্রী মোদীর (Narendra Modi) লোকসভা কেন্দ্রের বিধান পরিষদের একটি আসনে পরাজিত হয়েছে গেরুয়া শিবির। নাগপুর ও বারাণসীর ফল সামনে আসার পর কংগ্রেস নেতা পবন খেরা মোদীকে পাল্টা আক্রমণ করেন। নাগপুরের কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত হতেই সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, মোদী নিজের লোকসভা কেন্দ্রের একটি বিধান পরিষদ আসনেও পরাজয়ের মুখে পড়েছেন, পাশাপাশি নাগপুরেও হেরেছে বিজেপি। এরপরই তাঁর প্রশ্ন, ‘বলুন তো নাগপুরে কারা জিতল?’
নাগপুরের ফল প্রকাশের পর ফড়নবীশকেও নিশানা করেছে মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস (Congress)। প্রদেশ কংগ্রেসের সমাজমাধ্যম থেকে ফড়নবীশের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করা হয়েছে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রাপ্তি ‘বড় শূন্য’। যদিও ফড়নবীশের হ্যান্ডলে সেই পোস্টটি আর দেখা যাচ্ছে না। ফল প্রকাশের আগেই পোস্ট করেছিলেন তিনি। নাগপুরে কংগ্রেসের (Congress) জয়ে পোস্টটি নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেছে হাতশিবির।
দেখুন:




