আগামী নভেম্বর মাসে পুরসভার নির্বাচন যে হচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গে সেটা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভার নির্বাচন সম্ভবত ডিসেম্বর মাসে হবে। আর বাকি চারটি হতে পারে ফেব্রুয়ারি মাসে। কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে গিয়েছে। এখন তা চালানো হচ্ছে প্রশাসক দিয়ে। আর হাওড়ায় পুরসভার নির্বাচন দীর্ঘদিন হয়নি। এই আবহে আগামী সপ্তাহে আবার রাজ্যে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। কালীপুজোর পর আসবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই আবহেই প্রথমে নীতিন নবীন এবং তার পরেই অমিত শাহের রাজ্য সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে দুই পুরসভার নির্বাচনে কারা প্রার্থী হবেন সেটা নিয়ে বিজেপির অন্দরে নানা গুজন ছড়িয়েছে। বিজেপি এককভাবে প্রার্থী দিতে পারবে কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ এনসিপিআই দলে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ তাঁদের সন্তানদের বিজেপির টিকিটে দাঁড় করাতে চান। আবার তৃণমূল কংগ্রেসের বহু কাউন্সিলর বিজেপির টিকিটে লড়তে চাইছেন। এমন খবর সামনে আসায় বিজেপি নতুন রণনীতি সামনে নিয়ে আসতে পারে বলে সূত্রের খবর। আগামী ২ নভেম্বর কলকাতায় আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। রাজ্যের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন বলে সূত্রের খবর। যে বৈঠকে পুরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি রণকৌশল ঠিক করবেন তিনি।
অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘মুখোশ’ খুলতে দেশজুড়ে প্রচারে নামছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গেও আগামী শনিবার থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও-অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি পালন করা হবে। নীতিন নবীন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পর দেশজুড়ে এটাই বিজেপির প্রথম বড় কর্মসূচি। আগামী ২ নভেম্বর নবীন কলকাতায় এসে ওইদিন এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এই মহামিছিল হবে। ওই মহামিছিলে থাকবেন নীতিন নবীন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা-মন্ত্রীরা।
তাছাড়া গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষেই নীতিন নবীন রাজ্যে এসেছিলেন। এবার নভেম্বর মাসে আসছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি আন্দোলন শুরু করেছে। ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তাতে যোগ দিয়েছেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি মনে করছে, তাদের চাপে ফেলতে আগামী লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত এমন ‘অরাজকতা’ তৈরির চেষ্টা চলবে। তাই সিজেপি, কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের আন্দোলনের পাল্টা মোকাবিলায় বিজেপি এই কর্মসূচি নিয়েছে।




