পুলিশকেও সন্দেভাজনের তালিকা থেকে বাদ রাখছে না রাজ্য। চোরবাগান কাণ্ডে দুর্ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্তব্যে থাকা পুলিশ আধিকারিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে চলেছে লালবাজার। ইতিমধ্যেই প্রথম সপ্তমীর দিন, ১৭ অক্টোবর চোরবাগান পুজো মণ্ডপের বাইরে কারা ডিউটিতে ছিলেন, তার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। কারা ভিড় সামলানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাচ্ছিলেন, তাদেরকেই বেছে বেছে ডাকতে চলেছে কলকাতা পুলিশের সিট।
১৭ অক্টোবর মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ইতিমধ্যেই সাতজন পুজো কমিটির সদস্য এবং দুই ঘোষককে গ্রেপ্তার করেছিল গিরিশ পার্ক থানা। এক সদস্য তথা সেই দিনের ঘোষক সেন্টুকে নদিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপরই গ্রেপ্তার হয় আরেক ঘোষক কুশল মজুমদার। দ্বিতীয় ঘোষক কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে পুলিশের নির্দেশমতো ঘোষণার কথা। যে ঘোষণার ফলেই এই দুর্ঘটনা বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে। মাত্র তিনটে শব্দ। এই বিভ্রান্তিমূলক ঘোষণার পরই দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যায়। তারপর পদপিষ্টের ঘটনা। ১৯ জনের মৃত্যু। কেন, কোন পরিস্থিতিতে মণ্ডপ ভেঙে যাওয়ার কথা ঘোষণা করলেন ধৃত কুশল মজুমদাররা? কারা সেই পুলিশ কর্মী যাঁদের কথায় ঘোষণা করতে বাধ্য হন ঘোষক? এখন তালিকা তৈরি করে তাঁদের ডেকে পাঠিয়ে আসল সত্যি জানতে চান তদন্তকারীরা।

এদিকে ধৃত কুশল জানিয়েছেন, ২০ বছর ধরে তিনি চোরবাগানের সদস্য। অভিশপ্ত রাতে তিনি সন্ধ্যা নাগাদ বাড়ি থেকে মণ্ডপে আসেন। সেই সময় গিরিশ পার্ক থানার বড় বাবু ও ছোট বাবু ক্লাবে ছিলেন। কিছুক্ষণ পরে চা আনার জন্য কুশল ও সহ-সভাপতি কুশল দুবে বাইরে বের হন। ফেরার পথে বৃষ্টি নামে। দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সেই সময় কোষাধ্যক্ষ সেন্টু ঘোষণা করছিলেন, হুড়োহুড়ি করবেন না। বিপদ হতে পারে।
যদিও কুশলের দাবি, তাঁরা ক্লাবের ভিতরে চলে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই চিৎকার শুরু হয়। তা শুনে ক্লাব থেকে বেরিয়ে যান উপস্থিত পুলিশকর্তারা। তার কয়েক মুহূর্ত পর সম্পাদকের পুত্র কবীর এসে তাঁদের জানায় মণ্ডপের পিছনের অংশ ভেঙে গিয়েছে। ঠিক সেই সময় এক পুলিশকর্মী মাইকিং করার কথা বলেন। তিনি মাইকিং করেন।

কুশলের দাবি, মাইক মণ্ডপের ভিতর বা মাঠের চারদিকে ছিল না। মাইকের মুখ ছিল সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, মুক্তারাম বাবু স্ট্রিট, অমর বসু সরণি এবং পার্বতী ঘোষ লেনের মধ্যে। মাইকে ঘোষণার আগে পুলিশকে দিয়ে মণ্ডপে ঢোকার রাস্তাও বন্ধ করিয়েছিলেন। অন্যদিকে, চোরবাগানের বিপর্যয় ও মানুষের মৃত্যুর ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই, প্রয়াত চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী
এর পাশাপাশি, এই দুর্ঘটনার পিছনে মানবিক ভুলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি মুখ্যমন্ত্রী। চোরবাগানের দুর্ঘটনায় মৃতেদের বাড়িতেও গিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন।




