চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারপর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকটা দিন। যদিও ক্ষত এখনও তাজা। এই দুর্ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিট। তদন্তের মধ্যেই আরও এক ঘোষক গ্রেপ্তার হলেন। ধৃতের নাম কুশল মজুমদার ওরফে বাবু। যখন পুজোমণ্ডপে হুড়োহুড়ি চলছিল তখন মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা করেছিলেন কুশল বলে অভিযোগ। আর তার জেরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। তাই আগেই ঘোষক তথা চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ধৃতরা কারও নির্দেশে ঘোষণা করেছিলেন কিনা সেটা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
কুশল মজুমদারকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জেরা করা হচ্ছে। বিভ্রান্তিকর ঘোষণা করে বিপদ বাড়ানোর জন্য বৃহস্পতিবারই আর এক ঘোষককে নদিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শুক্রবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজির করা হয়। আর শুক্রবার কুশলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ফলে ঘোষণা সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে হল দুই। বিষয়টি ঠিক কী ঘটেছিল? প্রবল ভিড়ে হুড়োহুড়ির সময় মাইকে ঘোষণা করা হয়, মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়েছে। তার জেরেই দিকভ্রান্ত হয়ে ছুটতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা বলে অভিযোগ। যার জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। আর তারপরই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে। তাই তদন্তকারীদের নজরে ছিলেন ঘোষকরা। প্রথমে নদিয়া থেকে ঘোষক তথা চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবার গ্রেপ্তার অপর ঘোষক কুশল ওরফে বাবু।
এই কুশল ঘটনার পর থেকে নদিয়াতে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ ঘোষণা হতেই দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। কে বা কারা ওই ঘোষণা করেছিলেন সেটার অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশ। আগেই দুই ঘোষককে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দ্বিতীয়জনকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দু’জনকে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ। তাঁদের মধ্যে একজন সেন্টু। ওই ঘোষণা থেকে সবাইকে দ্রুত মণ্ডপ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল। মাইকের ওই ঘোষণায় আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে। হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায় বলেই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
তাছাড়া চোরবাগানের মণ্ডপের বাইরে যাওয়ার রাস্তাতেই ছিল ক্লাব সদস্য এবং বিশেষ অতিথিদের বসার ঘর। সেখান থেকে মাইকে ঘোষণার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, কলকাতা হাইকোর্টের কোনও বিচারপতিকে মাথায় রেখে তদন্তকারী দল গড়া হবে। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লেখেন। সেক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশ মেনে সিট গঠন করেছে রাজ্য সরকার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে এই সিট গঠন করা হয়েছে। আর লালবাজার সূত্রে খবর, ঘোষক হিসেবে দু’জন অভিযুক্তের নাম উঠে এসেছে তদন্তে। তাঁদের দু’জনকেই গ্রেপ্তার করল পুলিশ।




