অস্ট্রেলিয়ার এক হারে জমে গেল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনালে ওঠার লড়াই। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ইনিংস ও ৩১ রানে হেরে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাতে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকলেও কিছুটা ধাক্কা খেল প্যাট কামিন্সের দল। অন্য দিকে, ফাইনালে ওঠার আশা এখনও রয়েছে শুভমান গিলের ভারতের। তবে শুধু অন্যদের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। বাকি সাতটি টেস্টে বড়সড় সাফল্য পেতে হবে ভারতকে।
দক্ষিণ আফ্রিকার গেবেরহায় দ্বিতীয় টেস্টে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ৪২৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা করেন ১৭৯ রান। মার্কো জানসেনের ব্যাট থেকে আসে ৮৫ রান, সিমন হারমার করেন ৮২। জবাবে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জানসেন নেন পাঁচ উইকেট। ফলো-অন করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ট্রাভিস হেডের ১২১ রানের ইনিংস সত্ত্বেও ২৯৫ রানে শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার লড়াই।
এই জয়ের ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্টের শতকরা হার বেড়ে হয়েছে ৬৬.৬৭। তারা রয়েছে তিন নম্বরে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের পয়েন্টের শতকরা হার ৭২.২২। অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে থাকলেও তাদের পয়েন্টের শতকরা হার কমে হয়েছে ৭৫।
*ভারতের সামনে কঠিন অঙ্ক*
এই জয়ে ভারতের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা খুব বেশি বাড়েনি। তবে অস্ট্রেলিয়া যে পয়েন্ট তালিকায় আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেল না, সেটাই স্বস্তি দিতে পারে ভারতীয় শিবিরকে।
এখনও সাতটি টেস্ট খেলতে হবে গিলদের। তার মধ্যে দু’টি নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদেরই দেশে। বাকি পাঁচটি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে। অর্থাৎ, ফাইনালে ওঠার দৌড়ে থাকা দুই দলের বিরুদ্ধে সরাসরি নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে ভারতের।
বর্তমানে পয়েন্ট তালিকায় পাঁচ নম্বরে রয়েছে ভারত। তাদের পয়েন্টের শতকরা হার ৫১.৫২। বাকি সাতটি টেস্ট থেকে অন্তত ৬২ পয়েন্ট পেলে ৬০ শতাংশের সীমায় পৌঁছতে পারবে তারা। তার জন্য জিততে হবে বেশির ভাগ ম্যাচ। দু’টির বেশি টেস্ট হারলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যাবে। তবে অন্য দলগুলির ফলের উপরেও নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত ভারতের অবস্থান।
গত ডব্লিউটিসি চক্রে ফাইনালে উঠেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া। তাদের পয়েন্টের শতকরা হার ছিল যথাক্রমে ৬৯.৪৪ ও ৬৭.৫৪। ফলে এ বারও ফাইনালে ওঠার জন্য ৬০ শতাংশের বেশি পয়েন্ট পাওয়া যথেষ্ট হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
*বাংলাদেশও রয়েছে লড়াইয়ে*
ফাইনালে ওঠার দৌড়ে রয়েছে বাংলাদেশও। পয়েন্ট তালিকায় চার নম্বরে থাকা দলটির বাকি ছ’টি টেস্টের মধ্যে চারটি নিজেদের মাঠে। ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা পয়েন্ট বাড়াতে পারে। তবে তার জন্য নিজেদের ম্যাচ জেতার পাশাপাশি উপরের দলগুলির পয়েন্ট নষ্ট করার দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে।
ভারতের সামনে তাই রাস্তা কঠিন, কিন্তু বন্ধ নয়। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজই ঠিক করে দিতে পারে গিলদের টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন কতটা বাস্তব। দক্ষিণ আফ্রিকার জয় লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এ বার ভারতকে নিজেদের মাঠে ও বিদেশে ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিতে হবে।




