দশমীর রাতে ভয়াবহ খুনের ঘটল। মালদহে বিজেপি কর্মীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল। এমনকী তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে দু’রাউন্ড গুলিও চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। মালদহের ইংরেজবাজার থানার রামকেলি এলাকায় মৃত বিজেপি কর্মীর নাম সমীর ঘোষ(২৭)। অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূল কর্মীদের দিকে। এই ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসাররা। কেন এই খুন? সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পিছনে কে বা কারা রয়েছে সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার একজনকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
মৃতের ভাই জানান, দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক কারণে সমীর ঘোষকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতেন না তিনি। কিন্তু দশমীর দিন তিনি একা বাড়িতে ছিলেন। তখন ১০-১১ জন দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢুকে খুন করেছে। এই ঘটনায় কালীঘাট তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, বিজেপি করার অপরাধেই সমীর ঘোষকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। যদিও সেটা অস্বীকার করেছে কালীঘাট তৃণমূল। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। এলাকার এক তৃণমূল কর্মী এবং তাঁর দলের লোকজন ঢুকে পড়েছিল সমীরের বাড়িতে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার মানুষজন যখন প্রতিমা বিসর্জনে ব্যস্ত তখন সমীরের বাড়িতে বেশ কয়েকজন ঢুকে পড়ে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁর উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এমনকী সমীর ঘোষকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি চালায় মৃত্যু নিশ্চিত করতে। মৃতের ভাই বিবেক ঘোষ সংবাদমাধ্যমে জানান, তাঁর দাদা অনেকদিন ধরেই বিজেপির কর্মী ছিলেন। অভিযুক্তরা তৃণমূলের কর্মী। সমীরের সঙ্গে এলাকার তৃণমূল কর্মীদের দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। তার জেরেই দশমীর দিন তাঁর দাদার উপর হামলা চালিয়ে খুন করা হয়।
তাছাড়া কালীঘাট তৃণমূলের পালটা দাবি, এই ঘটনার পিছনে বিজেপিই রয়েছে। আর সেটা তদন্ত করলে সামনে আসবে। যদিও আসল কারণ খুঁজতে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। খুনের পিছনে কে বা কারা রয়েছে সেটা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকা এখনও থমথমে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ। তবে আত্মীয়দের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।




