• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 16 October, 2026

মেসির ৬৩ গোল দেখে হেসে ফেলেছিলেন চেলসির ফুটবলাররা! কী হয়েছিল সেই রাতে, জানালেন দ্রোগবা

শেষ পর্যন্ত ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে প্রথম বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে চেলসি। ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে

মেসির ৬৩ গোল দেখে হেসে ফেলেছিলেন চেলসির ফুটবলাররা! কী হয়েছিল সেই রাতে, জানালেন দ্রোগবা

Didiye Drogba-Messi Photo-SNS

এক মরসুমে মেসির গোলসংখ্যা দেখে নাকি বিশ্বাসই করতে পারেননি চেলসির ফুটবলাররা। হাসি থামাতে পারেননি দিদিয়ে দ্রোগবা-সহ দলের বাকি সদস্যেরা। সেই অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার কথা নিজের আত্মজীবনীতে লিখেছেন চেলসির এই প্রাক্তন স্ট্রাইকার।

লিওনেল মেসির পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছে গোটা ফুটবলবিশ্ব। তাঁর গোলের রেকর্ড দেখে বিস্মিত হয়েছেন প্রতিপক্ষের ফুটবলাররাও। কিন্তু মেসির গোলসংখ্যা দেখে এক সময় হেসেই ফেলেছিলেন চেলসির ফুটবলাররা! শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আইভরি কোস্টের প্রাক্তন স্ট্রাইকার দিদিয়ে দ্রোগবা। ২০১২-র চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে মেসির গোলের পরিসংখ্যান দেখে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল চেলসির সাজঘরে, সেই কাহিনিই সামনে এসেছে।

৬৩ গোল! বিশ্বাস করতে পারেননি দ্রোগবারা

২০১১-১২ মরসুমে বার্সেলোনার কোচ ছিলেন পেপ গুয়ার্দিওলা। সেই সময় দলের হয়ে একের পর এক গোল করছিলেন মেসি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে চেলসির কোচ রবার্তো দি মাত্তেও প্রতিপক্ষের সেরা গোলদাতাদের তালিকা ফুটবলারদের সামনে তুলে ধরেন। উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিপক্ষের কোন ফুটবলার সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক, তা বুঝিয়ে দেওয়া।

সাধারণত সেই তালিকায় ওয়েন রুনি বা রবিন ফান পার্সির মতো তারকাদের নাম থাকত। কিন্তু বার্সেলোনার তালিকাটি দেখার পর চেলসির ফুটবলারদের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারে অন্য রকম।

দ্রোগবা জানিয়েছেন, ‘এই ঘটনাটা আমার খুব ভাল করে মনে আছে। তখনকার চেলসি কোচ দি মাত্তেও আমাদের প্রতিপক্ষের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকা দেখাচ্ছিলেন। সাধারণত ওয়েন রুনির ২২ গোল বা রবিন ফান পার্সির ১৫ গোলের মতো পরিসংখ্যান দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম আমরা’।

কিন্তু বার্সেলোনার তালিকায় চোখ পড়তেই অবাক হয়ে যান চেলসির ফুটবলাররা। জাভি ১৪ গোল করে তালিকার তৃতীয় স্থানে। দ্বিতীয় স্থানে অ্যালেক্সিস স্যাঞ্চেজ এবং সেস ফাব্রেগাস, দু’জনেরই গোলসংখ্যা ১৫। আর সবার উপরে মেসি— এক মরসুমে ৬৩ গোল! তার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই ১৪টি।

দ্রোগবার কথায়, ‘যখন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে লিওনেল মেসির নাম পর্দায় ভেসে উঠল, আর দেখা গেল তাঁর গোলসংখ্যা ৬৩, তখন আমরা সবাই হেসে উঠেছিলাম। তার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই ১৪ গোল! সংখ্যাটা এতটাই অবিশ্বাস্য ছিল যে, আমরা একে অন্যের মুখের দিকে তাকাচ্ছিলাম। বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। শেষ পর্যন্ত হেসেই ফেলেছিলাম। আর কী-ই বা করতে পারতাম! আমি তো ওই গোলসংখ্যার ছবিও তুলে রেখেছিলাম। সত্যিই, সংখ্যাটা পাগল করে দেওয়ার মতো ছিল’।

মেসির সামনে হার মানেনি চেলসি

মেসির গোলসংখ্যা দেখে হাসলেও, তাঁকে আটকানোর চ্যালেঞ্জটা যে কত কঠিন ছিল, তা ভালই জানত চেলসি। ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে দ্রোগবারই গোলে বার্সেলোনাকে ১-০ হারিয়েছিল তারা।

দ্বিতীয় লেগে ক্যাম্প ন্যু-তে বার্সেলোনা ২-০ এগিয়ে যায়। জন টেরির লাল কার্ড দেখার পরে ১০ জনে খেলতে বাধ্য হয় চেলসি। সেই পরিস্থিতিতেও রামিরেজের গোল ব্যবধান কমায়। ম্যাচের শেষ দিকে ফার্নান্দো তোরেসের গোলে ২-২ করে ফেলে চেলসি। দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে থেকে ফাইনালে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ডের দল।

ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি মেসি। তাঁর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান তিনি শেষ করেন ১৪ গোল করে— যে সংখ্যাটি দেখে সেমিফাইনালের আগে চেলসির ফুটবলাররা বিস্মিত হয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে প্রথম বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে চেলসি। ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে গোল করে দলকে সমতায় ফেরানোর পাশাপাশি পেনাল্টি শুটআউটেও গোল করেছিলেন দ্রগবা।

মেসির সেই অবিশ্বাস্য মরসুম অবশ্য সেখানেই থেমে থাকেনি। ২০১১-১২ মরসুমে বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৩টি গোল করেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। তার মধ্যে লা লিগায় ৫০ গোল করে গড়েন প্রতিযোগিতার এক মরসুমের গোলের রেকর্ড। ২০১২ সালের শেষে ক্লাব ও দেশের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৯১, যা ভেঙে দেয় জার্ড মুলারের দীর্ঘ দিনের রেকর্ড।

মেসির গোলের সেই অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান দেখে এক সময় হেসে ফেলেছিলেন দ্রোগবারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই মেসিকেই আটকে দিয়ে ইতিহাস গড়েছিল চেলসি। ফুটবলের ইতিহাসে তাই এই গল্প শুধু এক গোলদাতার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যানের নয়, বরং তাঁকে থামানোর কঠিন চ্যালেঞ্জেরও।