পুজোর আগে জেলমুক্তির আশা কার্যত শেষ রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। দ্রুত শুনানির আর্জিও জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুজোর আগে শীর্ষ আদালতে তাঁর মামলার শুনানি হচ্ছে না। দুর্গাপুজোর ছুটির পর সুপ্রিম কোর্ট খুললে মামলাটি শুনানির জন্য উঠতে পারে। ফলে আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
গত ১৩ অক্টোবর সুজিত বসুর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে জামিন দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানায় আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন সুজিত।
পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। জামিনের বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে আদালতে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতি এবং বেআইনি নিয়োগের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। ইডির দাবি, সুজিতের নির্দেশে প্রায় ৩৪০ জন প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। প্রত্যেকের কাছ থেকে ছ’লক্ষ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও তোলে তদন্তকারী সংস্থা।
ইডির আরও দাবি, সুজিত বসুর নামে ৮ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার হদিশ মিলেছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও কোটি কোটি টাকা স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ১৫২ জনের নাম সুপারিশ করার অভিযোগও আদালতে জানানো হয়।
যদিও সুজিতের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি এই অভিযোগের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রথম চার্জশিটে সুজিতের নাম ছিল না। পরে অতিরিক্ত চার্জশিটে তাঁর নাম যুক্ত করা হয়। নিয়োগের দায়িত্বে সুজিত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি। ২০২১ সালের ঘটনার তদন্তে এফআইআর করতে এত দেরি কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন সিংভি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই সুজিতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘বই বিক্রির লড়াইয়ে’ হাইকোর্টে বড় ধাক্কা সিপিএমের! একক বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর অবশ্য জামিন মঞ্জুর করেনি হাইকোর্ট। একই মামলায় বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত এক মাসের অন্তর্বর্তী জামিন পাওয়ায় দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে আদালতের পৃথক সিদ্ধান্ত নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছিল। এবার সুপ্রিম কোর্টেও পুজোর আগে শুনানির সুযোগ না মেলায় সুজিতের জেলমুক্তির অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হল।




