সিপিএমের বুকস্টল করা নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, কলকাতা হাইকোর্টে মামলা গড়ায়। অবশেষে মহাপঞ্চমীতে বুকস্টল করার অনুমতি দেয় উচ্চ ন্যায়ালয়। তারপরও জেলার নানা প্রান্তে সিপিএমের বুকস্টল ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারপরও শহর থেকে জেলায় সিপিএমের বুকস্টল করা হচ্ছে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বলে লালপার্টির দাবি। কিন্তু এবার এই বুকস্টল করা নিয়ে খোঁচা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই খোঁচা বেশ তাঁদের গায়ে লেগেছে বলেও খবর।
এদিকে শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে নানা জায়গায় বুকস্টল খোলা হয়েছে। যা চলবে দুর্গাপুজো শেষ হওয়া পর্যন্ত। ইতিমধ্যেই মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছে সকাল থেকে। উৎসবের মেজাজে তাঁরা নিজেদের মেলে ধরেছে। দর্শনার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ ওই স্টলে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন লালপার্টির নেতারা। আর তার আগেই বেদম খোঁচা দিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ বুকস্টল করার অনুমতি দিলেও আবার ডিভিশন বেঞ্চেও তা চ্যালেঞ্জ করেছে রাজ্য সরকার। এই আইনি সংঘাতের মধ্যেই সিপিএমের বইয়ের স্টল নিয়ে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
অন্যদিকে ডিভিশন বেঞ্চে স্টল করার অনুমতি বহাল থাকে নাকি বাতিল করা হয় সেটা সময়ই বলবে। তবে সিপিএমের নেতারা কোমর বেঁধে নেমেছে বুকস্টল করতে। এই বুকস্টলগুলিতে খুব যে ভিড় হয় তা নয়। কিছু বামমনস্ক লোকজন এখানে যান। নতুন কোনও বই প্রকাশ হয়েছে কিনা খোঁজ নেন। আবার অনেকে সেখানে বসে দলের মুখপত্রও পড়েন। এটাই চিরাচরিত ছবি। সেখানে এবার বিতর্ক তৈরি হওয়ায় খানিকটা মাইলেজ পেয়ে গিয়েছে লালপার্টির বুকস্টল। এই আবহে শুক্রবার প্রাতঃভ্রমণ করতে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘সবাই স্টল করতে পারে। এতদিন করেছেন, করুন। বিক্রি তো হয় না। ২৫ বছর সেই একই বই রাখা। যেগুলি প্রদর্শনী করা হয়। এটাকে স্টল না বলে প্রদর্শনী বলুন। কিন্তু তারপরও কিছু ড্রামা করে খবরে আসার চেষ্টা করা হয়।’
সিপিএম যে নাটক করছে বুকস্টল করা নিয়ে তা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কদিন আগে বলেছিলেন, বুক স্টলে শারদোৎসব না লিখে দুর্গাপুজো লিখলে, তবেই মিলবে অনুমতি। পরে সেই বুক স্টল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বুক স্টল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে নানা জায়গায়। স্টল করতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিপিএম। এটাকেই নাটক বলেছেন দিলীপ ঘোষ।




